জেলার সুবর্ণচর উপজেলার মধ্যবাগ্গায় ৩০ ডিসেম্বর রাতে স্বামী ও সন্তানকে বেঁধে এক নারীকে গণধর্ষণ এবং বাড়িঘর ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার সাত আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল রবিবার সকালে জেলার ২নং আমলি আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নব মিতা গুহ এ আদেশ প্রদান করেন। এরা হলেন: ঘটনার মূলহোতা আওয়ামী লীগ নেতা রুহুল আমিন, পরিকল্পনাকারী হাছান আলী ভুলু, প্রধান আসামি মো. সোহেল, স্বপন, বেচু, বাদশা আলম বাসু ও জসিম উদ্দিন।
এদিকে গতকাল ভোরে এ মামলার ৯ নম্বর আসামি ফকির আহমদের ছেলে সালাহ উদ্দিনকে ফেনী জেলার সুলতানপুর এলাকা থেকে, বিকালে মামলার ৭ নম্বর আসামি মৃত সিদু মিয়ার ছেলে আবুল হোসেন আবুলকে চরজব্বার থানার পরিষ্কার বাজার এলাকা থেকে এবং একই ঘটনায় সম্পৃক্ত অভিযোগে মো. রফিকের ছেলে মুরাদকে সেনবাগ উপজেলার একটি ইটভাটা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত এই তিনজনই ঘটনাস্থল মধ্যবাগ্গা এলাকার বাসিন্দা।
এই মামলায় এপর্যন্ত এজাহারভুক্ত ছয় আসামি ও ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরো চারজনসহ ১০ আসামিকে ঘটনার ৫ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে তিন আসামি মোশাররফ, চৌধুরী ও হানিফ এখনও পলাতক রয়েছেন।
জেলা পুলিশ সুপার মো. ইলিয়াছ শরীফ জানান, দুপুরে রিমান্ডের আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দ্রুত বিচার আইনে চার্জশিট দাখিল করা হবে। যাতে করে দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হয় এবং অপরাধীরা সাজা পান। এজাহারভুক্ত পলাতক তিন আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
রুহুল আমিনকে আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কার: এদিকে ধর্ষণ ঘটনায় গ্রেফতারকৃত আলোচিত আসামি সুবর্ণচর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক রুহুল আমিনকে দলের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ওমর ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।