‘সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম মৃত্যুহীন প্রাণ। কোটি প্রাণের আবেগ ও অনুভূতির নাম সৈয়দ আশরাফ। তিনি ছিলেন মেধাবী একজন মানুষ। বাংলার মানুষ তাকে অনন্তকাল মনে রাখবে।’ গতকাল রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জানাজার জন্য সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালের (সিএমএইচ) হিমঘর থেকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্স সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আনা হয়। প্রথমে সেখানে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করা হয়। শ্রদ্ধাঞ্জলি পাঠ করেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। সৈয়দ আশরাফের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে হানিফ আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ আজ গভীর শোকে মুহ্যমান। আমাদের আদর্শিক সহোদর সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের মতো একজন রাজনৈতিক কর্মীকে চিরকালের বিদায় জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। আমাদের চারপাশে কেবল শোকসন্তপ্ত বাকরুদ্ধতা, কেবলই শূন্যতা।’
হানিফ বলেন, একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি চর্চার অগ্রদূত। আত্মপ্রচার, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি কখনো তাকে স্পর্শ করতে পারেনি। উদার, নৈতিক, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে তিনি ছিলেন অত্যন্ত জনপ্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন। দল গোষ্ঠী ও মতাদর্শের ঊর্ধ্বে সবার কাছে ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। বাঙালি জাতি আজ তার শোকে গভীর শোকাহত। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের নীতি-আদর্শ বিনয় ও মার্জিত চরিত্রের গুণাবলি আমাদের মধ্যে চির পাথেয় হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, ‘আজ আওয়ামী লীগ পরিবারের গর্বিত সন্তান সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে অন্তিম বিদায় জানাতে সমবেত হওয়া আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য কতটা বেদনার, কতটা কষ্টের তা বোঝানো যাবে না। ’
হানিফ বলেন, সৈয়দ আশরাফের মৃত্যুতে বাঙালি মেধাবী ও প্রজ্ঞাবান একজন রাজনীতিবিদকে হারিয়েছে। তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের কাণ্ডারি। ওয়ান ইলেভেনের সময় চরম বৈরী পরিবেশে দলের হাল ধরে তিনি জাতিকে পৌঁছে দিয়েছেন মুক্তির বন্দরে। হানিফ বলেন, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ছিলেন মুজিব আদর্শের ত্যাগী, নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিক। বিশ্বাস-অনুভূতির গভীর স্পর্শে তিনি ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পরম আপনজন। আজও মহাসিন্ধুর ওপার থেকে ভেসে আসে তার সে অমর বাণী- আওয়ামী লীগ তো আওয়ামী লীগই, এটা একটা দল এটা কোনোদিনও ভাবিনি। আওয়ামী লীগ একটা অনুভূতির নাম। তাকে চিরবিদায় জানানোর ভাষা আমাদের জানা নেই। তার স্মৃতির প্রতি জানাচ্ছি বিনম্র শ্রদ্ধা।’