রংপুরে সরকারি শিশু পরিবার (বালক) এ চিকিৎসা অবহেলা জনিত কারণে হোসেনের (১২) মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রবিবার রংপুর নগরীর তাজহাট থানার পাশে অবস্থিত সরকারি শিশু পরিবার (বালক), রংপুর এ ঘটনাটি ঘটেছে।
জানা গেছে সেখানে বসবাসকৃত এক শিশু রংপুর শিশু পরিবারের অধিনস্ত ধর্মদাস বারো-আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণিতে পড়ুয়া মোঃ হোসেন আলী (০৯) শিশু পরিবারের একটি বেল গাছ থেকে গত ৩১ ডিসেম্বর কাঁচা বেল খেয়ে প্রচণ্ড পেট ব্যথা ও পাতলা পায়খানা শুর হয়। এ অবস্থায় ও শিশুর বন্ধুরা পরিবারের বড় ভাই আবু তালেবকে অবহিত করে। কিন্তু তিনি কোন প্রকার ব্যবস্থা গ্রহণ করে না এবং সেখানকার কর্তব্যরত কম্পাউন্ডার ডাঃ মোস্তাফা কামালকে পর্যন্ত ঘটনাটি জানান নি। পড়ে অন্য শিশুরা কর্তব্যরত কম্পাউন্ডার ডাঃ মোস্তাফা কামালকে অভিহিত করলে তিনি তখনি তাকে স্যালাইন খাবার পরামর্শ দেন, পরে ব্যথা ও পায়খানা বেড়ে গেলে আবারো তার সাথে শিশুরা যোগাযোগ করলে তিনি পরিবারে কোন বাজেট নেই বলে জানিয়ে দেয়। এসময় হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলে পরিবারের বড় শিশুরা জোরপূর্বকভাবে শুক্রবার মোস্তাফা কামালকে সাথে নিয়ে ঐ শিশুকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু ভর্তি হওয়ার পর বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা প্রয়োজন হলে সময়মত তা করতে না পারায় এবং অবশেষে পরীক্ষা-নিরিক্ষা হলেও রিপোর্ট নেওয়ার সময় না থাকায় হাসপাতাল ত্যাগ চলে যায় সরকারি শিশু পরিবারের কর্মকর্তা। বিলম্বে তথ্যে জানা যায়, ফলে সঠিক চিকিৎসা না পেয়ে শেষ পর্যন্ত শনিবার মারা যায় পিতা-মাতা না থাকা এতিম শিশুটি।
এ ঘটনার সত্যতা জানিয়ে সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী শিক্ষক আতিয়া নাহিদ রাব্বী বলেন শিশুটি অসুস্থ সে খরব পর্যন্ত আমি জানি না। আবার আজ শিশুটি মারা গেছে তবুও তাকে আমাদের শিশু পরিবারে আনা হলো না আসলে ঘটনাটি দুঃখজনক।
ঘটনার সত্যতা জানার জন্য শিশু পরিবারের দায়িত্বে থাকা ঐ পরিবারের বড় ভাই আবু তালেবের সাথে কথা হলে তিনি জানান -আমরা শিশুটির চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম সেখানে সে মারা যায় এবং লাশ তার স্বজনদের কাছে পাঠানো হয়েছে সেখানে তারা তাকে কবরস্থ করেছে।
এছাড়াও শিশু পরিবারের অন্য শিশুরা আরো অভিযোগ করে বলেন- এখানে আমরা আমাদের মেনু অনুযায়ী খাবার, তেল, সাবান এমকি দাঁত ব্রাশের জন্য টুটপেস্ট ও পাই না। আমরা এই কথা অন্যদের সাথে আলোচনা করলে আমাদের এখান থেকে বের করে হোটেলে কাজ করার হুমকি প্রদান করে সংশ্লিষ্টরা।
তারা জানান আমাদের আগের উপ-তত্ত্ববধায়ক থাকাকালে আমরা মাসে একটা গোসল করা সাবান পেতাম কিন্তু এখনকার উপ-তত্ত্ববধায়ক বাজেট সংকট বলে পুরো মাস মিলে অর্ধেক সাবান প্রদান করে। কথাটি জানার জন্য বর্তমান উপ-তত্ত্ববধায়ক আরিফুর রহমানের সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন দেওয়া হলে তাকে পাওয়া যায়নি।
শিশু পরিবারের কম্পাউন্ডার ডাঃ মোস্তাফা কামাল বলে আমি নিজেই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছি সেখানে তার চিকিৎসার কোন ত্রুটি ছিল না এবং শিশুরা যে অভিযোগ করেছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।
এঘটনায় ধর্মদাস বারো-আউলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছাঃ নাজনিন আক্তার খানম দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
আরো পড়ুন: বাদ পড়ছেন নাহিদ, শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বে দীপু মনি
ঘটনার বিষয়ে তাজহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ রোকোনুজ্জামান রোকন বলেন- আমি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম সেখানকার শিশুরা আমাকে বিভিন্ন অভিােগ করেছে ও আজকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি লিখিত দরখাস্ত প্রদান করেছেন। আমি বিষয়টি নোট রেখেছি এবং কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলবো।
ই্ত্তেফাক/আরকেজি