মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি
মানিকগঞ্জে লালন দেওয়ান হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্বজনরা। গতকাল মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধি সঠিক সময়ে পদক্ষেপ নিলে লালন দেওয়ান হত্যাকাণ্ডের শিকার হতেন না। নিহত লালন সিংগাইরের মুক্তিযোদ্ধা হারুন অর রশিদ দেওয়ানের ছেলে। লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন নিহত লালন দেওয়ানের ভাই হালিম দেওয়ান। এসময় মামলার বাদী লালনের স্ত্রী মমতাজ বেগম, মেয়ে তৃষা দেওয়ান ও ছেলে শিবাহ দেওয়ানসহ আত্মীয়স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিংগাইরের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী প্রতিবেশী খন্দকার উজ্জ্বল বাঁশঝাড়ে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকার ইয়াবা লুকিয়ে রাখে। ঐ মাদক খোয়া যাওয়ায় লালনকে সন্দেহ করে উজ্জ্বল। অথচ লালন দেওয়ান ঐ মাদক সম্পর্কে কিছুই জানে না জানানোর পরও তা ফেরত দেওয়ার জন্য তাকে চাপ দেয় উজ্জ্বল। এর জের ধরে গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘোনাপাড়া এলাকা থেকে আসামি উজ্জ্বল, তার ভাই অনিক, করম আলী, ফাহিম, সোহান, আলী হোসেনসহ আরো চার-পাঁচ জন লালন দেওয়ানকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরের দিন ২৭ জুন পারিল খৈয়ামুড়ি এলাকায় লালনের লাশ পাওয়া যায়। এই ঘটনায় সিংগাইর থানায় মামলা দায়ের হলেও এখন পর্যন্ত মূল আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিংগাইর থানার এসআই নজরুল ইসলাম জানান, আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের পর এজাহারভুক্ত আসামি আলী হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত জুয়েল, পিয়াল হাসান ও অপহরণে ব্যবহূত গাড়ির চালক সাঈদকে গ্রেফতার করা হয়। আসামিরা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। মূল আসামিসহ অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।