মধুখালীর শিশু ফয়সাল হত্যা মামলা, সাড়ে ৯ বছর পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন সিআইডির 

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ডুমাইন ইউনিয়নের ডুমাইন গ্রামের ১০ বছরের শিশু ফয়সাল হত্যা মামলা পুনঃতদন্তে ৯ আগস্ট রবিবার সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডির পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। উচ্চ আদালতের নির্দেশে হত্যাকাণ্ডের ৯ বছর পর এ মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি।

এ সময় ফরিদপুরের সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল ইসলাম ও ফয়সাল হত্যা মামলায় সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) এস আই মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সিআইডি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা ডুমাইনে পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র পরিদর্শন করেন এবং পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের কর্মী বদরুল আলম সোনা মোল্যার (৭০), পাশের বাড়ির বাসিন্দা কবিতা রানী, ডুমাইন ইউপি চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম মাসুম ও ইউপি মেম্বার আজিজুল ইসলামের বক্তব্য রেকর্ড করেন। এছাড়া তদন্তকারী দলটি নিহত ফয়সালের বাড়িতেও যান।

সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল ইসলাম হত্যা মামলা তদন্তে ডুমাইনে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি এবং কয়েকজনের সাথে কথা বলেছি। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় বিস্তারিত জানানো যাচ্ছে না।

উচ্চ আদালতের নির্দেশে ফয়সাল হত্যা মামলা পুনরায় তদন্ত শুরু করে সিআইডি। তদন্তে নেমেই গত ২ জুলাই তারা চালকলের মালিক তুজাম বিশ্বাস ও নৈশ প্রহরী জসীম মোল্যাকে গ্রেফতার করে।

আরও পড়ুন: কুমেক হাসপাতালে করোনা উপসর্গে আরও ৫ জনের মৃত্যু

উল্লেখ্য, গত ২০১১ সালের ১৫ এপ্রিল নিখোঁজ হয় মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার শেখের ছেলে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র ফয়সাল। এরপর জিডির সূত্র ধরে জাহাঙ্গির আলম পলাশ ও মুরাদ বিশ্বাস নামে দুজনকে গ্রেফতার করে রিমান্ডে এনে একসাথে জিজ্ঞাসাবাদের দুদিন পর ১৫ মে ওই পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের সেফটি ট্যাংকে পাওয়া যায় ফয়সালের লাশ। ঘটনাটি তখন ব্যাপক আলোচিত হয়ে ওঠে। তবে মাত্র চার মাসের মধ্যে তদন্ত শেষে তড়িঘড়ি করে আদালতে চার্জশীট দেওয়ার অভিযোগ উঠে এ মামলায়।

ডুমাইন ইউপি চেয়ারম্যান খুরশিদ আলম সাংবাদিকদের জানান, ফয়সালের লাশের সন্ধান কিভাবে মিললো সে রহস্যই জানা হলোনা। মামলার তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিপুল দে লাশটি উদ্ধার করেন। তবে লাশের সন্ধান কিভাবে পেলেন সেকথা জানতে চাইলে এসআই বিপুল জানান স্বপ্নযোগে এটি জেনেছেন! এটি কোন তদন্তকারী কর্মকর্তার গ্রহণযোগ্য বক্তব্য হতে পারে না।

কবিতা রানী (৩৫) নামে নামে এক নারী বলেন, ‘তার বাড়ি ওই সেফটি ট্যাংকের পাশেই। লাশ উত্তোলনের দিন খুব সকালে এসআই বিপুলকে প্রথমে একা ওই স্থানে আসতে দেখেন। এরপর পুলিশ ফোর্স নিয়ে এসে লাশ তুলেন।’

নিহতের ভাই নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘লাশের সন্ধান কিভাবে পেলো এবং ফয়সালের প্যান্টে কেন কুড়া (তুষ) লাগানো ছিল এই রহস্য উদঘাটন হওয়া জরুরি। আমাদের বলা হয়েছিল চাল কলে ফয়সালকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। তাহলে এসব আসামিরা এতো তাড়াতাড়ি কিভাবে ছাড়া পায়?

তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবার জেলা জজ আদালত হতে সম্প্রতি গ্রেফতার দুই আসামি জামিন লাভ করেছে। তার আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার অপর দুই আসামিও জামিনে বেরিয়ে মামলার তদন্ত ও সাক্ষীদের প্রভাবান্বিত করতে চাইছে।

ইত্তেফাক/এএএএম