ফেসবুকে আর লিখবেন না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর ছাড়া পেয়েছেন ইসলামী ঐক্যজোটের প্রয়াত চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনীর দৌহিত্র আশরাফ মাহদী। গত ৬ আগস্ট রাজধানীর লালবাগ থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছিলেন তিনি। যেখান থেকে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়, দুই দিন পর সেখানেই তাকে ফেলে যায় অপহরণকারীরা। এর আগে ২৭ জুলাই মিশর যাওয়ার পথে দুবাই থেকে তাকে ফেরত আনা হয়। পরদিন একটি মামলায় চট্টগ্রাম আদালতে তাকে হাজির করা হলে জামিন পান।
আশরাফ মাহদীর বাবা মাওলানা জসিম উদ্দিন বলেন, আমার ছেলেকে যারা নিয়ে গিয়েছিল তারা ফেসবুকে লেখালেখি না করার শর্তে ছেড়ে দিয়েছে। কারা নিয়ে গিয়েছিল সে বিষয়ে আমরা কিছু জানি না। ছেলে ফিরে এসেছে এতেই আমরা খুশি।
মিশরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আশরাফ। তার বাবা মাওলানা জসিম উদ্দিন আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ছুটি পাওয়ার পর ৪ জুলাই সে দেশে আসে। ২৫ জুলাই তার ফিরে যাওয়ার কথা। এর মধ্যে সে ফেসবুকে কিছু স্ট্যাটাস দেয় যা অনেককেই কষ্ট দিয়েছে। যদিও সে সন্দেহের কথা বলেছে। তারপরও বিষয়গুলো মিটমাট হয়ে যায়। ২৫ জুলাই সকালে সে মিশরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করে। ট্রানজিট হিসেবে দুবাই নামার পর সেখানে ইমিগ্রেশন তাকে জানায়, ওয়ান্টেড হিসেবে বাংলাদেশ তাকে ফেরত পাঠাতে বলেছে। দুবাই ইমিগ্রেশন তাকে ২৭ জুলাই দুপুরে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়। রাতে পৌঁছার পর সকালে চট্টগ্রাম নিয়ে যায়। সেখানে আদালতে তুললে আদালত জামিন দেন। এরপর থেকে সে বাসায়ই ছিল।
নিখোঁজ হওয়ার আগে সর্বশেষ আশরাফের দেখা হয় তার খালু মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন বলেন, নানুর সঙ্গে দেখা করে যখন আশরাফ বাসায় ফিরে যাচ্ছিল তখন পথের মধ্যে আমার সঙ্গে দেখা হয়। কুশলাদি বিনিময়ের পর সে বাসায় যাওয়ার কথা বলে। কয়েক মিনিট পরে ১১টা ২৭ মিনিটে তার ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেখি। সেখানে সে লিখেছে, লালবাগের বাসা থেকে ফেরার পথে ওরা আমাকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে। আমার কিছু হলে দায়ী থাকবে ফয়জুল্লাহ-আলতাফ গং।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘আশরাফ মাহদী আমার ছেলের মতো। ওর বাবা আমার ঘনিষ্ট বন্ধু। একসঙ্গে রাজনীতি করি। কেন সে এই অভিযোগ করল সেটা বুঝতে পারছি না। ও নিখোঁজ হওয়াতে আমরাও উদ্বিগ্ন। আমরাও বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি করছি।’
হেফাজতে ইসলামীর সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, ইসলামী ঐক্যজোটের মধ্যে আমিনী সাহেবের পরিবারের সদস্যদের বিরোধ থেকেই আলোচনায় এসেছেন আশরাফ মাহদী। আমিনী সাহেবকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে আশরাফ যখন ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন তখনই বিবাদের শুরু। এরপরই আমিনীর পরিবার দুই ভাগ হয়ে যায়। এক গ্রুপে আছেন ইসলামী ঐক্যজোটের বর্তমান মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ, আমিনী সাহেবের ছেলে হাসনাত, সাবেক খাদেম মাওলানা আলতাফ। আর অন্য গ্রুপে আছেন আমিনী সাহেবের দুই জামাই যারা লালবাগ মাদ্রাসায় আছেন। আশরাফ মাহদীর বাবা মাওলানা জসিম উদ্দিন, মাওলানা মুফতি সাখাওয়াত হোসেন ও মামলানা জুবায়ের।