‘ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদী দখল করে রমরমা বালুর ব্যবসা’ শীর্ষক সংবাদ ইত্তেফাকের অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় প্রকাশের পর টনক নড়েছে পাবনা জেলা ও ঈশ্বরদী উপজেলা প্রশাসনের। গত রবিবার (৯আগস্ট) সংবাদ প্রকাশের পর জেলা প্রশাসকের নির্দেশে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিহাব রায়হান সরেজমিনে ড্রেজার মেশিন অপসারণ করেছেন। বাইরে থেকে নৌকায় নিয়ে আসা বালু ওই স্থানে লোডিং ও আনলোডিং বন্ধ করে ওই ঘাটে নৌকা না ভিড়তে নির্দেশ দিয়েছেন। সেই সঙ্গে অতি অল্প সময়ের মধ্যে পাহারসম বালুর মজুদ সরিয়ে নিতে আদেশ জারি করেছেন। তবে কতোদিনের মধ্যে বালুর পাহার অপসারণ করতে হবে সে সময় বেঁধে দেওয়া হয়নি। তাই শেষ হচ্ছে না মজুদ থাকা বালু!
এব্যাপারে বালুর ব্যবসা নিয়ন্ত্রক পাকশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও পাকশী ইউপি চেয়ারম্যান এনামুল হক বিশ্বাস বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের পর এখানে বালু তোলা বন্ধ রয়েছে। রাতের আঁধারে নৌকায় করে নিয়ে আসা বালু চুপেচাপে হয়ত কেউ কেউ কেনেন। এটা দেখার দায়িত্ব প্রশাসনের। এর আগে নিলামে ক্রয়কৃত বালু বিক্রির জন্য জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন জানালে আমাকে বিক্রি করার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে কতো দিনের মধ্যে বিক্রি করে দিতে হবে এমন সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়নি।
এব্যাপারে পাবনার জেলা প্রশাসক কবীর মাহমুদ বলেন, ওইখানে আর বালুর ব্যবসা করতে দেওয়া হবে না। ইউএনওকে নদী দখল করে বালুর পাহার অপসারণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি কাজ শুরু করেছেন। দুইএক দিনের মধ্যে বালু বিক্রির সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।
প্রসঙ্গত গত ২৮ জানুয়ারি সরকারি জায়গা দখল করে বালু ব্যবসা বন্ধ করতে পদ্মা নদীর তীর থেকে জব্দ করা বালু নিলামে বিক্রি করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ইউএনও শিহাব রায়হানের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনুজা মন্ডল, রিফা আসমা, নাজমুস সাদাত ও সাইদুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তা ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য এসময় উপস্থিত ছিলেন। বালু ব্যবসার নিয়ন্ত্রক এনাম বিশ্বাসের কাছেই নিলাম ডাকের মাধ্যমে ৩২ লাখ টাকায় জব্দকৃত বালু বিক্রি করা হয়। ছয়মাসেরও অধিক সময় ধরে ওই বালুর ঘাট হতে প্রতিদিন শত শত ট্রাক ও ট্রাক্টর বালু বিক্রি হলেও নিলামে ক্রয়কৃত বালুর মজুদ শেষই হচ্ছে না। ছয় মাস পরও মজুদ পূর্বের অবস্থায় রয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি