পানির অভাবে কেওলার হাওরে বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত!

কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল কেওলার হাওরকে কেন্দ্র করে কৃষকরা প্রতিবছর বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো আবাদ করেন। নিম্নাঞ্চল এলাকা থাকায় কৃষকরা মূলত বোরো চাষাবাদে নির্ভরশীল। লাঘাটা নদীর রূপশপুর এলাকায় ক্রসবাঁধ দিয়ে সেচ সুবিধা নিয়ে যুগ যুগ ধরে বোরো চাষাবাদ করা হতো। তবে এ বছর নদীতে ক্রসবাঁধ না দেয়ায় নিম্নাঞ্চলে লাঘাটা নদী ও কেওলার হাওরে প্রাকৃতিক পানির অভাব দেখা দেয়। এতে করে প্রায় ১৫০ হেক্টর এলাকার বোরো আবাদকৃত বিস্তীর্ণ এলাকা রয়েছে অনাবাদি। ফলে কৃষকরা রয়েছে উত্কণ্ঠায়।

জানা যায়, উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে কেওলার হাওরসহ বিল ও বোরো চাষাবাদকৃত বিস্তীর্ণ এলাকা। দীর্ঘকাল ধরে এসব এলাকায় বোরো চাষাবাদ হয়ে আসছে। উপজেলা কৃষি অফিস এ বছর চার হাজার ১১৫ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। তবে বিগত বছরগুলো থেকে উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। প্রাকৃতিক পানি ও সেচের অভাবজনিত কারণে অনেক কৃষকের বীজতলা পূর্ণতা পেলেও এখন পর্যন্ত জমি তৈরি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ তাদের।  

সরেজমিনে কেওলার হাওর এলাকায় দেখা যায়, বোরো আবাদকৃত এলাকার লাঘাটা নদীর সন্নিকটে কিছু জমিতে সেচ দিয়ে মুষ্টিমেয় ব্যক্তি জমি তৈরি করছেন। তবে হাওরের বিস্তীর্ণ বোরো জমি রয়েছে খাঁ খাঁ মরুভূমি।

ধূপাটিলা গ্রামের কৃষক কাপ্তান মিয়া, শেরওয়ান আলী, আকতার মিয়া ও রূপষপুর গ্রামের মোজাহিদ মিয়া বলেন, অন্যান্য বছরের এ সময়ে অনেক জমি আবাদ হয়ে যেত। তবে লাঘাটা নদীতে ক্রস বাঁধ না দেয়ার কারণে এখন পর্যন্ত এখানকার জমি তৈরি করাও সম্ভব হয়নি। নদীতে বাঁধ দেয়ার কারণে নিচু জমিতে পানি প্রবেশ করতো। সেসব জমিতে সেচেরও প্রয়োজন হতো না। এছাড়া অন্যান্য জমিতে সেচ নিয়ে হাওরের অধিকাংশ জমিতে বোরো চাষাবাদ করা যেত।

কৃষকরা বলেন, কয়েকদিনের মধ্যে পানির সুবিধা পাওয়া না গেলে বীজতলাও নষ্ট হয়ে পড়বে। 

লাঘাটাছড়া পাবসস লিমিটেডের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান এবং কমলগঞ্জ হাওর ও নদী রক্ষা আঞ্চলিক কমিটির সদস্য সচিব তোয়াবুর রহমান বলেন, নদী ও হাওরে এখনও আশানুরূপ পানি পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া গত দু’বছরে আগাম বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বোরো চাষাবাদে কেউ কেউ আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

পতনঊষার ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান নারায়ণ মল্লিক সাগর ও মুন্সীবাজার ইউনিয়নের ইউপি সদস্য হাজী আব্দুল আলী বলেন, জনপ্রতিনিধিদের উদ্যোগে নদীতে ক্রস বাঁধ হয়। তবে চলতি মৌসুমে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে। আশা করা হচ্ছে, শিগগির বাঁধ হবে।

কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রঘুনাথ সাহা বলেন, কৃষকরা চাষাবাদের পানি পাওয়ার কথা। তবে পানি ও সেচের অভাব থাকলে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।