রয়টার্স ও আল জাজিরা
সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আগে ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের আগে রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন বলেন, এমনভাবে সেনা প্রত্যাহার করা হবে যাতে ইসরাইল এবং মধ্যপ্রাচ্যে অন্য মার্কিন মিত্ররা নিরাপত্তা নিয়ে ‘পুরোপুরি আশ্বস্ত’ থাকে।
এর আগে সিরিয়া থেকে সেনা সরিয়ে নেওয়ার পূর্বশর্ত হিসেবে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসকে পরাজিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বিদ্রোহীদের সুরক্ষায় তুরস্কের কাছে নিশ্চয়তা চেয়েছিলনে বোল্টন। এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় সেনা প্রত্যাহারের আগে ইসরাইলসহ মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার করলেন বোল্টন। নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনার আগে সাংবাদিকদের বোল্টন বলেন, আইএসকে পরাজিত করা এবং তারা যেন পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে, ফের কোনও হুমকি হয়ে উঠতে না পারে সেটা নিশ্চিত করার পরই সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের সরিয়ে নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, ওই অঞ্চলে ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের অন্য মিত্রদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। আইএসের বিরুদ্ধে অন্য যারা লড়াই করেছে তাদের প্রতিও খেয়াল রাখা হবে।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ইরানের হুমকি থেকে ইসরাইলকে রক্ষায় কাজ করছে তার দেশ। এ লক্ষ্যে ইসরাইলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্কোন্নয়নে ধারাবাহিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক টিভি চ্যানেল নিউজম্যাক্স’কে দেওয়া সাক্ষাতকারে পম্পেও বলেন, সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার করা হলেও দেশটিতে ইরানের অবস্থানের বিরুদ্ধে ইসরাইলের যেকোনো উদ্যোগে সমর্থন দেবে ওয়াশিংটন।
গত ১৯ ডিসেম্বর হঠাত্ করেই সিরিয়া থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তখন তিনি সিরিয়ায় আইএস’কে পরাজিত করার দাবিও করেন। সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের ওই সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত ছিল না যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র বেশ কয়েকটি দেশ। এছাড়া মার্কিন প্রশাসনের মধ্যেও বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত দেখা দেয়। আফগানিস্তান ও সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো কিছু সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পদত্যাগে বাধ্য হন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসস। ট্রাম্প সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করছেন বলে রিপাবলিকান একজন সিনেটর পরবর্তীতে সংবাদমাধ্যমকে জানান।