যেখানে ময়লা ফেলা নিষেধ সেখানেই ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়!

রাস্তার পাশে, বাড়ির আঙ্গিনায়, দর্শনীয় স্থানসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সময় একটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন সাইন বোর্ডে ‘এখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষেধ’ লেখা চোখে পড়ে। কিন্তু ময়লা-আবর্জনা ফেলা নিষেধ লেখা সাইন বোর্ড দেখা সত্ত্বেও অনেকেই সেই স্থানেই ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন। অনেক সময় ময়লা-আবর্জনা ফেলার নির্দিষ্ট স্থান লেখা থাকলেও সেখানে না ফেলে অনেকেই নিষেধ লেখা স্থানেই ময়লা-আবর্জনা ফেলছেন।

কাপ্তাই-রাঙ্গামাটি সড়কের ১৭টি স্থানে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড় দেখা গেছে। এসব আবর্জনা দিনের পর দিন পড়ে থাকলেও পরিষ্কার করা হয় না। ফলে ময়লা-আবর্জনা অনেক সময় সড়কের উপর এসে জমা হয়। এর ফলে কোনো কোনো স্থানে সড়ক সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। দুর্গন্ধ ছড়ায়। এমনকি সড়কের ঐ স্থানে দুর্ঘটনারও আশঙ্কা থাকে। কিন্তু একটু সচেতন হলেই এই সমস্যা এড়ানো যেতে পারে বলে অনেকেই অভিমতে জানিয়েছেন।

রাঙ্গামাটি সরকারি কলেজের ছাত্রী মিনু চিং মারমা ও শৈবাল তনচংগ্যা বলেন, আসলে মানুষই সমস্যার সৃষ্টি করছে। মানুষ যদি যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা না  ফেলতো তাহলে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হতো না। তারা বলেন, ময়লা- আবর্জনা একজন ফেলছেন না। ঐ এলাকায় বসবাসকারী সবাই ঘর গৃহস্থালীর যাবতীয় আবর্জনা রাস্তার পাশে ফেলছেন। আর সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভা অথবা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ময়লা পরিষ্কার করারও উদ্যোগ চোখে পড়ে না। এর জন্য শুধু যে পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে তা নয় মানুষের শরীরও স্বাস্থ্যহানীর ঝুঁকিতে পড়ছে।

রাণী দয়াময়ী স্কুলের একজন শিক্ষক বলেন, সচেতন হবার জন্য সাইন বোর্ড লিখতে হয় না। এটা মানুষের মন-মানসিকতার ব্যাপার।  অনেক পরিবারের বড়রাই এই কাজটি বেশি করেন। এর ফলে পরিবারের ছোট শিশুটিও শিখছে কোথায় ময়লা ফেলতে হয়। সেও বড় হয়ে রাস্তার পাশেই ময়লা ফেলছে। ময়লা-আবর্জনা যেখানে সেখানে না ফেলার জন্য কাপ্তাই মানবাধিকার কমিশনের পক্ষ থেকে সবাইকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ময়লা-আবর্জনা ফেলার স্থান আরো বেশিসংখ্যক তৈরি করা ও সপ্তাহে কমপক্ষে একবার আবর্জনা পরিষ্কার করে নিয়ে যাবার ব্যবস্থা রাখার প্রতিও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।