কাঙ্ক্ষিত বিচার ছাড়াই পার হলো ফেলানি হত্যার আট বছর

কাঙ্ক্ষিত বিচার ছাড়াই কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফ-এর গুলিতে নির্মমভাবে নিহত বাংলাদেশি কিশোরী ফেলানী খাতুন হত্যার ৮ বছর পূর্ণ হয়েছে সোমবার। দিনটি উপলক্ষে নাগেশ্বরী উপজেলার রামখানা ইউনিয়নে অবস্থিত  নিজ বাড়ি কলোনীটারীতে সকালে ফেলানীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মিলাদ মাহফিল ও কাঙালি ভোজের আয়োজন করে তার পরিবার।

রবিবার রাতে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি’র অধিনায়ক লে: কর্ণেল আনোয়ার-উল-আলম ফেলানীর বাবা নূর ইসলামের পরিবারের খোঁজখবর নেন। বিজিবি’র পক্ষ থেকে দোয়া মাহফিল পরিচালনা ও নতুন কাপড়-চোপড়ের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন জানান, ফেলানীর পরিবারটিকে বিভিন্ন সময়ে সহযোগিতা করা ছাড়াও তাদের দেখভালের দায়িত্বের কথা জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও বিজিবি’র উদ্যোগে একটি দোকান করে দেওয়া হয়েছে।

২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্ত দিয়ে বাবা নূর ইসলামের সঙ্গে মই দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া টপকিয়ে বাংলাদেশে ফেলার সময় বিএসএফ-এর গুলিতে নিহত হয় ফেলানী।

২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অভিযুক্ত বিএসএফ সদস্য অমিয় ঘোষকে বেকসুর খালাস দেয় ভারতের কোচবিহারের সোনারী ছাউনিতে স্থাপিত বিএসএফ-এর বিশেষ আদালত। পুনঃবিচারের দাবিতে ফেলানীর বাবা নূর ইসলাম ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারত সরকারের নিকট আবেদন করেন। 

পরে দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের ২০ নভেম্বর বিচারিক কাজ চলার সময় বিএসএফ আদালতে অভিযুক্ত অমিয় ঘোষ অসুস্থ হয়ে পড়ায় ৪ মাসের জন্য বিশেষ আদালতের কার্যক্রম মুলতবি করা হয়েছে।

এরপর ২০১৫ সালের ১৩ জুলাই ভারতীয় মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চ (মাসুম) ফেলানী খাতুন হত্যার বিচার ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে দেশের সুপ্রিম কোর্টে রিট আবেদন করে। ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর শুনানির পর ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টে বারবার তারিখ পিছিয়ে যায়। ফলে থমকে গেছে ফেলানী খাতুন হত্যার সুষ্ঠু বিচার।

 ফেলানীর প্রতিবেশী আব্দুল মান্নান,আজমত আলী ও রফিক মিয়া জানান, ৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো সুষ্ঠু বিচার হয়নি।

অপরদিকে ফেলানীর মা জাহানারা বেগম ও বাবা নূর ইসলাম বলেন, সরকার ফেলানীর পরিবারের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও হতদরিদ্র এই পরিবারের পাশে সেভাবে দাঁড়ায়নি। বিচার কাজ আটকে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

কুড়িগ্রামের পাবলিক প্রসিকিউটর এড. এসএম আব্রাহাম লিংকন জানান, ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চে ফেলানী হত্যা ও ক্ষতিপূরণের শুনানি রিট আবেদন গ্রহণ করে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ কয়েকটি সংস্থাকে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেয়। ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আগামী ১৮জানুয়ারি দু’টি রিটের শুনানির দিন ধার্য করে। শুনানি পিছিয়ে গেলেও  ফেলানীর পরিবার ন্যায় বিচার পাবেন বলে প্রত্যাশা তার।

এদিকে নাগরিক পরিষদের আয়োজনে এবারেও ৭ জানুয়ারি বিকেল ৩টায় আয়োজন করা হয় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী ও সমাজ কর্মীদের নিয়ে মুক্ত আলোচনার।