দীর্ঘ পাঁচ মাসেও জাতির পিতাকে অবমাননা করার বিচার হয়নি তারই নামে গড়ে তোলা গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে। পাঠ্যক্রমে জাতির পিতার নামের বানান ভুলসহ জাতির পিতাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর সাল বর্ণনায় পাঠদানকে কেন্দ্র করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তার কোন কার্যক্রম পাওয়া যায়নি বিগত পাঁচ মাসে। বিষয়টি নিয়ে জাতির পিতার মৃত্যুর দিনে আরও একবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজ।
গত ১২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে কৃষি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. গোলাম রসুল কর্তৃক বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক কোর্সের প্রস্তাবনায় জাতির পিতার নামের বানান বিকৃত করে ব্যঙ্গাত্মকভাবে উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবনায় বঙ্গবন্ধুর শাসনকালকে ১৯৭২-৭৫ হিসেবে উপস্থাপন করে প্রকারান্তরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি তা অস্বীকার করা হয়। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও বিগত পাঁচ মাসে তার কোন কার্যকারিতা নেই।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দাবি, ডিন প্রফেসর ড. গোলাম রসুল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী মানুষ। আর এ কারণেই এ ধরণের ভুলগুলো হয়েছে, যা থেকে শিক্ষার্থীরা জাতির পিতাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাচ্ছে।
মুজিববর্ষে এ ধরণের কার্যক্রমের প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রফেসর ড. কামরুজ্জামান, প্রফেসর ড. মোর্শেদুর রহমান, প্রফেসর রশীদুল হাসানসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষকবৃন্দ।
এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক সহযোগী অধ্যাপক ইত্তেফাককে বলেন, ‘বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের সংবিধান স্বীকৃত জাতির পিতা। এ সময় তাকে নিয়ে অনেক গবেষণা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ক কোর্সের শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর নামের বানানটাই ভুল। আবার ইয়াহিয়া খান ও আইয়ুব খানের মতো মানুষের নামের বানানে ভুল নাই। তাদের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ বেশি যত্নশীল ছিলেন।’
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওই শিক্ষক বলেন, ‘১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর শাসন আমল উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে জাতির পিতাকে দেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। এসব ভুলের কারণ অবহেলা অথবা ইচ্ছাকৃত অবমাননা ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।’
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সার কৃষকের পেছনে দৌড়ায়: মতিয়া চৌধুরী
বিশ্ববিদ্যালয়টির বর্তমান উপাচার্য বিএনপিপন্থী শিক্ষদের পৃষ্ঠপোষকতা করেন দাবি করে তিনি বলেন, ‘জামাত-বিএনপিপন্থী ২৭ জন শিক্ষক এখনও এখানে রয়েছেন। তাদেরকে ব্যবহার করে উপাচার্য তার প্যানেলকে বিজয়ী করে নিজের ইচ্ছেমত কাজ করে আসছেন।’
এ সকল বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের শিক্ষকবৃন্দ একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক এ ধরনের ষড়যন্ত্রমূলক উপস্থাপনার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব গ্রহণসহ দায়ী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।
এ ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেই শেষ। বিষয়টি নিয়ে আর কিছু এগোয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই শিক্ষকবৃন্দ।
উল্লেখ্য, গত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের ইতিহাসকে অস্বীকার করে জামাত-বিএনপিপন্থী শিক্ষকবৃন্দ ব্যবহারিক কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণ করে রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী কাজ করে। এ সংক্রান্ত সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং বিভিন্ন মহলে সমালোচিত হওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আজ পর্যন্ত কোন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।
ইত্তেফাক/এএএম