সরকারি ও বেসরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী নেওয়ার পূর্বঘোষণা থেকে সরে এসে পুনরায় লটারি পদ্ধতি বহাল রাখার চিন্তা করছে সরকার। শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত মানসিক চাপ কমানো এবং ভর্তিকেন্দ্রিক কোচিং বাণিজ্যের আশঙ্কা দূর করতেই এই ভাবনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের শীর্ষস্থানীয় একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে সোমবার রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সিদ্ধান্তটি কোমলমতি শিশুদের ওপর বাড়তি মানসিক ও প্রতিযোগিতামূলক চাপ সৃষ্টি করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকে বিষয়টি পুনরায় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। তার ভাষ্য, 'চলতি মাসেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।'
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের এক শীর্ষ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ করে এদিন রাতে গণমাধ্যমকে বলেন, “ভর্তিতে পরীক্ষার বদলে লটারি বহাল রাখার বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। লটারি বহাল রাখা যায় কিনা বা কোন কোন শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখায় যায়, সে বিষয়ে ভর্তি কমিটিকে আলোচনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আশা করছি ১০ অগাস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।
চলতি বছরের মার্চ মাসে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন লটারি প্রথা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়ে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্কুলে ভর্তিতে লটারিপদ্ধতি বাতিল করে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সে-সময়এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, 'বছরের প্রথমে অ্যাডমিশন যেটা হয়, সেখানে আমরা লটারির পরিবর্তে পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করতে যাচ্ছি। আগাম জানিয়ে দিলাম, যেন সবাই সুযোগ পায়। আমরা লটারি সিস্টেম উইথড্র করলাম,দ্যাটস ইট।'
উল্লেখ্য, ২০১১ শিক্ষাবর্ষে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষার পরিবর্তে প্রথমবারের মতো লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু করা হয়। ২০১২ সালে বেসরকারি বিদ্যালয়েও একই ব্যবস্থা কার্যকর হয়। তবে সে সময় দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হতো। পরে কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ২০২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি শুরু হয় এবং এর পর থেকে একই পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

