করোনা ভাইরাসের কারণে দীর্ঘ পাঁচ মাস পর আরো ১৩ জোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু হয়েছে। গতকাল রবিবার সকাল থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে এ ট্রেন চলাচল শুরু হয়। প্রতিটি ট্রেনের মোট আসনের অর্ধেক টিকিট বিক্রি হচ্ছে, যার শতভাগই অনলাইনে। এদিকে রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন জানিয়েছেন, ট্রেনের টিকিট নিয়ে যেন কোনো কালোবাজারি না হয় সে জন্য অনলাইনে টিকিট দেওয়া হচ্ছে। গতকাল সকালে ট্রেন চলাচল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের সার্বিক কাজ পরিদর্শনে এসে এ কথা জানান তিনি।
১৩ জোড়া ট্রেনের মধ্যে রয়েছে: রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী রুটে পদ্মা এক্সপ্রেস, ঢাকা-সিলেট-ঢাকা রুটে পারাবত এক্সপ্রেস, ঢাকা-মোহনগঞ্জ-ঢাকা রুটে হাওড় এক্সপ্রেস, ঢাকা-তারাকান্দি-ঢাকা রুটে অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, রাজশাহী-চিলাহাটি-রাজশাহী রুটে তিতুমীর এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে মহানগর এক্সপ্রেস, পঞ্চগড়-ঢাকা-পঞ্চগড় রুটে একতা এক্সপ্রেস, খুলনা-ঢাকা-খুলনা রুটে সুন্দরবন এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম-ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম রুটে বিজয় এক্সপ্রেস, ঢাকা-নোয়াখালী-ঢাকা রুটে উপকূল এক্সপ্রেস, খুলনা-চিলাহাটি-খুলনা রুটে সীমান্ত এক্সপ্রেস, গোবরা-রাজশাহী-গোবরা রুটে টঙ্গীপাড়া এক্সপ্রেস। এ ছাড়া ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ বাজার-ঢাকা রুটে জামালপুর কমিউটার ট্রেন চলাচল করবে।
কমলাপুর রেলস্টেশন পরির্দশনকালে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, আমরা গত মে মাসে ১৭ জোড়া ট্রেন চালু করেছিলাম। সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে আজ (গতকাল) থেকে আরো ১৩ জোড়া ট্রেন চলাচল করবে।
স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইনে টিকিট কাটার মতো সক্ষমতা শতভাগ মানুষের নেই। সেক্ষেত্রে তারা কী ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবে না -সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেলপথ মন্ত্রী বলেন, করোনার মহামারিতে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া ভ্রমণকে আমরা সবাই নিরুত্সাহিত করছি। আর তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে দুর্নীতি যেমন কমবে, আমাদের সময়ও বাঁচবে। অনলাইন টিকিট ক্রয়ে আস্তে আস্তে অভ্যস্ত হয়ে যাবে মানুষ। ঘরে বসে যাতে টিকিট কাটতে পারে, এ কারণেই এই ব্যবস্থা করা হয়েছে। আমরা যা কিছু করছি সাধারণ যাত্রীদের জন্যই করছি। রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বলেন, স্বাভাবিক অবস্থায় একটা মানুষ ৪টি টিকিট কিনে অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দেয়। তাই এক আইডেন্টি কার্ডে ৪টা টিকিট করতে পারবেন না। এর উদ্দেশ্য হলো আপনার সঙ্গে যে ৪ জন ভ্রমণ করবে, সেটিও আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সেলিম রেজা, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. শামসুজ্জামানসহ রেলের কর্মকর্তারা।
উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট বাংলাদেশ রেলওয়ে এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানায়, যদি কোনো ব্যক্তি ট্রেনে ভ্রমণের নিজ টিকিট, রিটার্ন টিকিট অথবা নির্দিষ্ট মেয়াদি টিকিট কারো নিকট হস্তান্তর বা বিক্রয় করেন তাহলে তার তিন মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড অথবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় প্রকারের দণ্ড হবে। অনুরূপভাবে অন্যের টিকিট ব্যবহার করে ভ্রমণ করলে তাকে দ্বিগুণ ভাড়া দিতে হবে। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট আগের মতো অনলাইনে ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে বিক্রি করা হবে।