জীবনযুদ্ধেই কেটে গেল তার এতগুলো বছর

উপজেলার হাইজাদী ইউনিয়নের তিলচন্দ্রদী গ্রামে তার বাড়ি। নাম তাছলিমা আক্তার । বয়স ২০-এর কোঠায়। জীবনযুদ্ধেই কেটে গেল তার এতগুলো বছর। সুখের আশায় গিয়েছিলেন সৌদি আরবে গৃহকর্মীর কাজ করতে। কিন্তু সুখ তার ভাগ্যে জোটেনি। অত্যাচার-নির্যাতনে অল্পদিনের মধ্যেই সেদেশ থেকে চলে আসেন তিনি। এরপর বিয়ে করে স্বামী সংসার নিয়ে সে সুখে দিন কাটাবে— এটাই সবার কাম্য ছিল। কিন্তু তাছলিমার কপাল মন্দ। বিয়ে হলেও তার ভাগ্যে জুটেছিল মাদকাসক্ত স্বামী। সেই সংসার আর করা হয়নি তার। এখন এক এনজিওতে সামান্য চাকরি করে কোনোমতে সংসার চলছে তার।

তাছলিমা আক্তার জানান, তার বয়স যখন ১৬ তখন তার বাবা মারা যান। তাকে ও তার ছোট বোন জুমাকে নিয়ে মা জোসনা বেগম পড়ে যান মহাদুশ্চিন্তায়; কিভাবে সংসার চলবে! এক পর্যায়ে তাছলিমা প্রতিবেশী এক দালালের মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা খরচ করে সৌদি আরব  যান। জেদ্দা শহরে এক বাসায় কাজও পান তিনি। কিন্তু সেখানে তার উপর প্রচণ্ড শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। পরে মাত্র ২ মাসের মাথায় দেশে চলে আসতে বাধ্য হন তিনি।

তাছলিমা বলেন,  দেশে এসে কি কাজ করবো তা ঠিক করতে পারছিলাম না। এ অবস্থায় আমার মা ও স্বজনরা মিলে  আমাকে সোনারগাঁয়ে ডালিম নামে এক যুবকের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। কিছুদিন সংসার করার পর বুঝতে পারলাম আমার স্বামী মাদকাসক্ত। সে মাদক সেবন করে আমার উপর নির্যাতন চালাতো। স্বামীর সংসার করতে না পেয়ে বাপের বাড়ি চলে আসি। অভাবের সংসারে চোখে অন্ধকার দেখি। ৪ বছর আগে  প্রতিবেশী এক বোনের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে স্থানীয় অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম-ওকাপের রি-ইন্ট্রিগ্রেশন বিভাগে সেলাই এর কাজ শুরু করি। সেলাইয়ের কাজ করে মাসে ৫/৭ হাজার টাকা বেতন পাই। বর্তমানে তা দিয়ে কোনোমতে সংসার চালাচ্ছি। ৪ বছর ধরে আমি এ কাজই করছি।

ওকাপের ফিল্ড অফিসার আমিনুল হক বলেন, বিদেশ ফেরত মেয়েটির অসহায়ত্ব দেখে আমরা তাকে আমাদের এনজিওতে চাকরি দেই। তাছলিমা বলেন, আরও ভাল কোনো চাকরি পেলে জীবনটা সুন্দর করে পরিচালনা করতে পারতাম।