রাজধানী থেকে মাত্র ৬৫ কিলোমিটার উত্তরে এক অবহেলিত জনপদ ঢাকার পার্শ্ববর্তী জেলা গাজীপুরের কাপাসিয়া। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের সাথে জড়িয়ে আছে কাপাসিয়ার নাম। মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমদের জন্মভূমি এই কাপাসিয়া। শিক্ষিত জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত এ উপজেলায় আজও কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে ওঠেনি। স্বাধীনতার পর এখান থেকে ৪ জন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী হলেও কাপাসিয়া আজো পৌরসভার মর্যাদা পায়নি। এলাকার অনেকেই অভিযোগের সুরে বলেন, গাজীপুর জেলার শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, কালিগঞ্জ বহু আগেই পৌরসভার মর্যাদা পেলেও শুধু বাদ পড়েছে এ জনপদটি।
জানা যায়, তাজউদ্দিন আহমেদ মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে দেশ স্বাধীন করার পর স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। স্বাধীনতার পরবর্তীতে দায়িত্ব পান অর্থমন্ত্রীর। বিএনপির বর্তমান স্থায়ী কমিটির সদস্য আসম হান্নান শাহ খালেদা জিয়ার সরকারের পাটমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তাজউদ্দিন আহমদের ছোট ভাই আফসারউদ্দিন আহমদ শেখ হাসিনার সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে তাজউদ্দিন আহমদের ছেলে তানজিম আহমেদ সোহেল স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব লাভ করেন। অনেকে এমপি হয়েছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগ-বিএনপির অনেক সিনিয়র নেতার বাড়ি কাপাসিয়ায়। সরকারের উচ্চপদস্থ অনেক কর্মকর্তার বাড়িও এখানে। অথচ আজও এলাকার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। ফলে রাজধানীর পার্শ্ববর্তী প্রায় সাড়ে ৪ লাখ জন অধ্যুষিত সাড়ে তিনশ বর্গকিলোমিটারের এ জনপদটি এখনও অনুন্নত রয়ে গেছে। যেন প্রদীপের নীচে অন্ধকার।
শীতলক্ষ্যা নদী কাপাসিয়া উপজেলাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করে রেখেছে। সদরে রয়েছে ৩টি এবং নদীর অপর পাড়ে রয়েছে ৮টি ইউনিয়ন। ২৩১টি গ্রামে মোট খানার সংখ্যা ৭০ হাজার ৪৬১টি। উপজেলায় ৭৬টি উচ্চ বিদ্যালয়, ৬৫টি মাদ্রাসা ও ৯টি কলেজ রয়েছে। এ সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক ভবন, বিজ্ঞানাগার, নিজস্ব লাইব্রেরি সংকট প্রকট। মাত্র ১৯৮ কিলোমিটার রাস্তা পাকা থাকলেও ৬৪৯ কিলোমিটার রাস্তাই এখনো কাঁচা রয়েছে। ইট বিছানো রাস্তা আছে ১৪ কিলোমিটার। এখানে ১৭৫টি নলকূপে আর্সেনিক ধরা পড়েছে। মাত্র ৫৮ ভাগ মানুষ স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা ব্যবহার করে।
পিছিয়ে পড়া এ জনপদটির অধিকাংশ মানুষই কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। মোট ৮৩১ একর জমির মধ্যে ৭৯৮ একরই কৃষি জমি। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে চোখে পড়বে আখ, পেয়ারা, কলা ও লিচুর বাগান এবং দিগন্ত জোড়া সুবজ ধান ক্ষেত। কাপাসিয়ায় কোনো শিল্প-কারখানা গড়ে না ওঠায় এখানে শিক্ষিত-প্রশিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। উপজেলার প্রায় ২৫ হাজার মানুষ কাজের সন্ধানে প্রিয় মাতৃভূমি ছেড়ে প্রবাসে পাড়ি জমিয়েছে।
এলাকার উন্নয়ন বলতে শুধু শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর নির্মিত ফকির মজনু শাহ সেতু এবং কয়েকটি ছোট-বড় সড়ক। স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তাজউদ্দিন আহমদের কন্যা সিমিন হোসেন রিমি বলেন, অনেক আগেই আমরা উদ্যোগ নিয়েছি কাপাসিয়াকে পৌরসভা ঘোষণার জন্য। সকলের সহযোগিতা পেলে শীঘ্রই এ প্রত্যাশা পূরণ হবে।