ইত্তেফাকে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও ব্যাখ্যা

'পাঠ্যক্রমে জাতির পিতাকে অবমাননা: বিচার না হওয়ায় শোকের মাসেও ক্ষুব্ধ শিক্ষক সমাজ'- এই শিরোনামে ইত্তেফাকের অনলাইন ভার্সনে প্রকাশিত একটি সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিবাদ জানিয়েছে সংবাদটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট 'বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়'। ১৮ আগস্ট প্রেরিত প্রতিবাদ পত্রে স্বাক্ষর করেন বিশ্ববিদ্যালয়টির রেজিস্ট্রার মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার।

প্রতিবাদে দাবি করা হয়, "বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে জাতির পিতাকে অবমাননা: বিচার না হওয়ায় শোকের মাসেও ক্ষুব্ধ শিক্ষক সমাজ' শিরোনামে যে সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে তা বিভ্রান্তিকর, সত্য বিবর্জিত এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।"

সেখানে আরো বলা হয়, "প্রকাশিত সংবাদে 'পাঠ্যক্রমে জাতির পিতার নামের বানান ভুলসহ জাতির পিতাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর সাল বর্ণনায় পাঠদানকে কেন্দ্র করে' এবং 'যা থেকে শিক্ষার্থীরা জাতির পিতাকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য পাচ্ছে' এমন বক্তব্য ব্যবহার করা হয়েছে। অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ১২/০৩/২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলের ১৩০তম সভায় বিএস (কৃষি) পর্যায়ে “Bangladesh History & Culture” বিষয়ক একটি নূতন কোর্স সংযোজনের ব্যাপারে আনীত প্রস্তাবের উপর প্রাথমিক আলোচনা হয়। কিন্তু ডিন, কৃষি অনুষদ কর্তৃক উপস্থাপিত কোর্সটিতে অসংগতি থাকায় এবং বিএস পর্যায়ে কৃষির বিষয়সমূহ নিয়ে কোর্স লোড ২০০ ক্রেডিট ঘণ্টার বেশি হওয়ায় একাডেমিক কাউন্সিল সর্বসম্মতভাবে কোর্সটি আপাতত বিএস পর্যায়ে অন্তর্ভুক্ত না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যেহেতু কোর্সটি একাডেমিক কাউন্সিল কর্তৃক অনুমোদিতই হয়নি সেহেতু উক্ত কোর্স পাঠদান করানো এবং এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য পাওয়ার প্রশ্নই উঠে না।"

আরও পড়ুন: পাঠ্যক্রমে জাতির পিতাকে অবমাননা: বিচার না হওয়ায় শোকের মাসেও ক্ষুব্ধ শিক্ষক সমাজ

প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধুর নামের বানান ভুল ও তদন্ত কমিটি প্রসঙ্গে বলা হয়, "ডিন, কৃষি অনুষদ কর্তৃক একাডেমিক কাউন্সিলে উপস্থাপিত কোর্সটির কন্টেন্ট এ ইংরেজিতে 'বঙ্গবন্ধু' এর নামের বানান ভুল ইচ্ছাকৃত কিনা এবং উহাতে কোন অসংগতি আছে কিনা তা খতিয়ে দেখার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ ৩ জন শিক্ষক সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতির কারণে ২২/০৩/২০২০ তারিখ হতে অদ্যাবধি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কমিটি তদন্ত সম্পন্ন করতে পারে নাই।"

অবশ্য উল্লেখিত এই সময়ে মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সভা, প্রশিক্ষণ, নিয়োগ বোর্ড এমনকি সিন্ডিকেট সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু তারপরও এই কমিটির কার্যক্রমে কোন অগ্রগতি না হওয়ার ক্ষেত্রে করোনাকালীন সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম বন্ধ রাখার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়াও প্রতিবেদনে বিগত ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা গ্রহণের ঘটনার উল্লেখ থাকলেও প্রতিবাদলিপিতে সে বিষয়ে কোন কিছু জানানো হয়নি।

ইত্তেফাক/আরএ