অণুগল্প

আট বছর পরে একদিন

 

আট বছর আগে একদিন চাঁদ থেকে জোসনার আলো সরতেই নেমে আসে বুড়ি। খ্যানখেনে গলায় পানভরা ফোকলা মুখে বলে, মানাইয়া ল’ মানাইয়া ল’ ছুড়ি। সংসার করন এত সোজা না। কত শত বার মানাইতে অয়, মানতে অয়, তার কি লেখাজোখা আছে? কম তো আর দ্যাখলাম না জেবনে।

আট বছর ধরে মানাতে মানাতে মানানসই মাপের জীবনটা যখন ঠেরেঠুরে অভ্যেসে দাঁড়ায়, তখনি ধাম করে খুলে যায় দরজা। মাইগ্রেনের ব্যথায় টিকতে না পেরে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতেই প্রেম ছিল যা, আশা ছিল যত, জোসনার মতো করে প্রেম-আশা মুঠোয় ধরে ভরদুপুরে সে দেখেছিল ভূতের মতো যাকে, সে আর কেউ নয়, নিজেরই ছোট বোন, নাম যার আশা। হোস্টেলে ঘুম নাকি ভেঙে যায় বারবার, অথবা হয়নি ঘুম বহুকাল বলে স্রেফ ঘুমানোর তাগিদে জোসনাফেনামাখা মুখে পরী সেজে খাট উজাল করে ঘুমাবে বলে এসেছিল নাকি! আশার জন্য অনুমেয় উষ্ণ অনুরাগে দরজা খুলে দিয়ে উটের গ্রীবার মতো নিস্তব্ধতা নিয়ে যে কি না পাশে ছিল আশার, সে তারই অর্ধেক জীবন। কোন জীবন? আট বছর ধরে মানাতে মানতে মানানসই বানিয়ে তোলা এ-ই তো, যা কিছুতেই ফড়িঙের নয়, দোয়েলেরও নয়, তা কেবলি তার! 

খ্যানখেনে গলায় পানভরা ফোকলা মুখে বলে আবারও, মানাইয়া ল’...

একগাছা দড়ির মতোই হাতব্যাগের চেন টেনে সে বুড়ি চাঁদটারে ভরে দেয় ফাল্গুনের রাতের আঁধারের গহ্বরে। থুরথুরে অন্ধ পেঁচা তখন অশ্বত্থের ডালে বসে এসে চোখ পালটিয়ে কয়, বুড়ি চাঁদ গেছে বুঝি বেনো-জলে ভেসে।

সে জবাবে কয়, কী জানি! হবে হয়তো!

পেঁচাটা উড়ে এসে বসে একেবারে মাথায়। বলে, চমত্কার! ধরা যাক দু’একটা ইঁদুর এবার!

যাক! যাক তবে!!