বগুড়ায় তোলপাড়, ছাত্রীকে যৌন হায়রানিতে দুই শিক্ষক বরখাস্ত

বগুড়ার বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজের প্রাক্তন দুই ছাত্রীর যৌন হয়রানির অভিযোগকে কেন্দ্র্র করে দুই শিক্ষককে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ তদন্তে বগুড়ার অতিরিক্তজেলা প্রশাসককে (শিক্ষা ও আইসিটি) প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হকের সঙ্গে শুক্রবার রাতে জরুরি বৈঠক শেষে শনিবার এ তথ্য জানান অধ্যক্ষ। তিনি জানান, সাময়িক বরখাস্ত হওয়া দুই শিক্ষক ইংরেজি ও বাংলা বিভাগের প্রভাষক।

তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটির প্রধান করা হয়েছে বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মাসুম আলী বেগকে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বগুড়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুর রহমান এবং বিয়াম মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান।

বিয়াম মডেল স্কুল ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ইংরেজি বিভাগের প্রভাষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন প্রাক্তন এক শিক্ষার্থী। তার অভিযোগ, প্রতিবাদ করায় তাকে ফোন করে হুমকি দেন ওই শিক্ষক। ওই ফোনালাপের অডিও এবং অশ্লীল প্রস্তাবের ম্যাসেঞ্জারের স্ক্রিনশট ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় পর তোলপাড় শুরু হয়।

এদিকে ইংরেজি বিভাগের ওই প্রভাষক বলেন, ফেসবুক আইডিটা তার নিজের। মেসেঞ্জারে উত্ত্যক্ত করার বিষয়টিও সত্য। তবে ফেসবুকে চ্যাটিংয়ের সময় তার মুঠোফোনটা ‘মিস ইউজ ’ হয়েছে। 

অপরদিকে ওই ছাত্রীকে যৌন হয়রানি করার ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে যখন তোলপাড়, তখন ওই প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন প্রাক্তন আরেক ছাত্রী। ওই মেয়েটিও এ নিয়ে গণমাধ্যমে মুখ খোলেন। 

মেয়েটির অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির বাংলা বিভাগের প্রভাষক গত জানুয়ারি মাসে তাকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। পরে তিনি অধ্যক্ষের কাছে বিচার দাবি করেন। কিন্তু কোনো আশ্বাস পাননি। ফলে ২২ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। কিন্তু বিচারের বদলে উল্টো অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ শুরু হয়। শিক্ষকেরা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখান। মাসখানেক পর অধ্যক্ষের কক্ষে ডাকা হয় মেয়েটিকে। সেখানে মৌখিকভাবে শিক্ষক ক্ষমা চান। বিষয়টি মীমাংসা করতে মেয়েটিকে বাধ্য করা হয়।

অধ্যক্ষ মোস্তাফিজুর রহমান অবশ্য দাবি করেন, মেয়েটিই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ফলে বিষয়টির মিটমাট হয়ে যায়। 

বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি) মাসুম আলী বেগও দাবি করেন, ভুল বোঝাবুঝি থেকে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে শিক্ষক ও ছাত্রী দুজনই মিটমাট করে নেন। ফলে অভিযোগের তদন্তের আর প্রয়োজন হয়নি।

ইত্তেফাক/এসি