সাক্ষীর অভাবে থমকে আছে বিচার প্রক্রিয়া

পুরান ঢাকার হোসেনী দালানে পবিত্র আশুরার তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার পাঁচ বছরেও বিচারকার্য শেষ হয়নি। করোনা পরিস্থিতি এবং সাক্ষীদের অভাবে থমকে আছে সাক্ষ্য ও বিচার প্রক্রিয়া। তবে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের বর্তমান আইনজীবী আশাবাদী, করোনা পরিস্থিতি কেটে গেলে বিচারকার্য আবারও পুরোদমে শুরু হবে। তখন তারা বাকি সাক্ষীদেরও হাজির করতে পারবেন।

২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর প্রথম প্রহরে তাজিয়া মিছিলে শরীক হওয়ার জন্য অনেকেই হাজির হন। ঐ সময় হঠাত্ করেই তিনটি বোমা বিস্ফোরিত হয়। আহত হন প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ। এর মধ্যে দুই জন চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হলে সেটি তদন্তের দায়িত্ব পান ডিবির পরিদর্শক শফিউদ্দিন শেখ। টানা একটি বছর চলে তদন্ত। তদন্ত শেষে মামলার চার্জশিট দেওয়া হয়। চার্জশিটে উল্লে­খ করা হয় যে, এই হামলা চালিয়েছে জামায়াতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা। ঐ চার্জশিটে ১০ জনকে আসামি করা হয়। পরে মামলার ১০ আসামির মধ্যে চার জন জামিন পেয়েছেন।

এরা হলেন —ওমর ফারুক মানিক, হাফেজ আহসান উল­াহ মাসুদ, শাহজালাল মিয়া এবং চান মিয়া। কারাগারে আছেন কবির হোসেন ওরফে রাশেদ ওরফে আশিক, মাসুদ রানা মাসুদ ওরফে সুমন, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, আবু সাঈদ রাসেল ওরফে সোলায়মান ওরফে সালমান ওরফে সায়মন, আরমান ওরফে মনির, জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মুসায়াব ও রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব ওরফে সুমন। এদের মধ্যে জাহিদ, আরমান, রুবেল ও কবির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এর মধ্যে এক জন শিশুও ছিল। যার কারণে পরবর্তীতে সম্পূরক চার্জশিট দেওয়ার জন্য বলেছিল আদালত। আলোচিত এই মামলায় প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম। এরপর গত বছর আইনজীবী পরিবর্তন হয়। বর্তমানে মামলাটি দেখছেন আইনজীবী গোলাম সারয়ার খান জাকির।

আরও পড়ুন: আপত্তি সত্ত্বেও আরপিও বাতিলে অনড় ইসি!

বর্তমান সরকারি পক্ষের আইনজীবী গোলাম সারয়ার খান জাকির বলেন, এ পর্যন্ত ১১ জনের মতো সাক্ষ্য দিয়েছে। বাকিরাও দেবেন। করোনা পরিস্থিতির কারণে বিচারকার্যে কিছুটা ভাটা পড়েছে। তবে করোনা কাটলে বিচারকার্য আবারও শুরু হবে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মেদ বলেন, এ মামলায় চার জন জামিনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সাক্ষীরা কোনো সাক্ষ্য দেননি ও আসামিরা ১৬৪ ধারায় কোনো জবানবন্দিতে তাদের নাম বলেনি। তাই বিচারক তাদের জামিন মঞ্জুর করেছেন।

ইত্তেফাক/এএএম