করোনা ভাইরাসের ধাক্কায় পালটে গিয়েছিল ক্রিকেট সূচি। একের পর এক আন্তর্জাতিক সিরিজ করোনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। বাংলাদেশ দলের আন্তর্জাতিক ব্যস্ততায় বড় ছেদ পড়েছে করোনাকালে। এপ্রিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি টেস্ট, একটি ওয়ানডে স্থগিত হয়েছে। পরে আয়ারল্যান্ড সফরে ওয়ানডে, টি-২০ স্থগিত হয়। বছরের মাঝামাঝি সময়ে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দুটি হোম সিরিজও আলোর মুখ দেখেনি।
সর্বশেষ সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছিল শ্রীলঙ্কা সফর। আশার কথা, এ মাসেই লঙ্কা সফরে যাবে বাংলাদেশ দল। তিন টেস্টের সিরিজটা তাই পাচ্ছে বাংলাদেশ।
বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজনের দেওয়া তথ্য মতে, স্থগিত হওয়া বাকি সিরিজগুলোও খেলার আশায় আছে বিসিবি। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে স্থগিত দুটি সিরিজই আগামী বছর অনুষ্ঠিত হতে পারে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অধীনে হোমে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের দুটি টেস্ট স্থগিত হয় করোনার কারণে। অক্টোবরে নিউজিল্যান্ড সফরে তিনটি টি-২০ খেলার কথা ছিল টাইগারদের। সম্প্রতি নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের প্রকাশিত সূচিতে এই সিরিজটি রাখা হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে যেটি হতে পারে। ব্ল্যাক ক্যাপসদের বিরুদ্ধে স্থগিত হওয়া সিরিজগুলো সম্পর্কে গতকাল সাংবাদিকদের বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেছেন, ‘নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ড যে চারটা সিরিজের কথা বলেছে তার মধ্যে একটা আমাদের ট্যুর রয়েছে নিউজিল্যান্ডে। এটা সামনের বছর ফেব্রুয়ারির দিকে হবে, সেভাবেই পরিকল্পনা রয়েছে।’
দুই ম্যাচের সিরিজটিও আগামী বছর হতে পারে। নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন বলেন, ‘এছাড়া নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও আমাদের একটা বোঝাপড়া হয়েছে যে, আগামী বছর মাঝামাঝি সময়ে আমরা সিরিজটি নিশ্চিত করব।’
পাকিস্তানের সঙ্গে সিরিজটা খেলা সম্ভব। তবে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে দুই টেস্টের সিরিজ আয়োজনের জন্য কাজ করছে বিসিবি। অষ্ট্রেলিয়ার সময় পাওয়া সাপেক্ষে হবে এই সিরিজ। বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেন, ‘আমাদের চারটা সিরিজ স্থগিত হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে। এর বাইরে একটি টেস্ট বাকি ছিল, যেটা পাকিস্তানের সঙ্গে। যেহেতু মাত্র একটি টেস্ট সেহেতু আমাদের অল্প সময়ের একটা উইন্ডো দরকার হবে। এটা আমরা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করব আশা রাখি। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে সিরিজটিতো চূড়ান্তই। এর বাইরে অস্ট্রেলিয়া ও আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গেও আমাদের আলাপ আলোচনা চলছে।’
অস্ট্রেলিয়ার ফাঁকা সময় এবং তাদের রাজি হওয়ার অপেক্ষায় এখন বিসিবি। ওয়ানডে লিগের অধীনে আইরিশদের সঙ্গেও খেলবে বাংলাদেশ। আর আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল পিছিয়ে যেতে পারে।
ইত্তেফাক/এসি