আবারো আফ্রিকার বর্ষসেরা সালাহ

স্পোর্টস রিপোর্টার

মিশ্র অনুভূতির একটা সময় কাটাচ্ছিলেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে অনেকদিন বাদে যেমন দল লিভারপুল দেখতে শুরু করেছে শিরোপার স্বপ্ন, তেমনি মুদ্রার অন্য পিঠের মত এফএ কাপ থেকে ছিটকে যেতে হলো এক দুই রাত আগেই। এর মধ্যেই নতুন একটা সুখবর নিয়ে আসলেন মোহাম্মদ সালাহ।

আবারো আফ্রিকার বর্ষসেরা ফুটবলার নির্বাচিত হলেন এই মিশরিয়ান কিংবদন্তি। টানা দ্বিতীয়বারের মত তিন আফ্রিকান সেরা মুকুট জিতলেন। মঙ্গলবার রাতে সেনেগালের ডাকারে গতকাল আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। ২৬ বছর বয়সী লিভারপুলের তারকা ফরোয়ার্ডই যে এই পুরস্কারটা জিততে যাচ্ছেন, সেটা আগে থেকেই অনুমান করা যাচ্ছিল বর্ষসেরা পুরস্কারের তালিকায় তিনি পিছনে ফেলেছেন ক্লাব সতীর্থ সেনেগালের সাদিও মানে ও আর্সেনালের গ্যাবনিজ স্ট্রাইকার পিয়েরে-এমেরিক আবামেয়াঙকে।

পুরস্কার গ্রহণের পর স্বাভাবিকভাবেই দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন সালাহ। তিনি বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই এই পুরস্কার জয়ের স্বপ্ন দেখতাম। আর এখন পরপর দু’বার আমি এটা গ্রহণ করছি। এজন্য আমি পরিবার, সতীর্থ, ভক্ত-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি এই শিরোপা আমার দেশ মিশরকে উত্সর্গ করতে চাই।’

গতবছর এই পুরস্কার জয়ের মাধ্যমে সালাহ ১৯৮৩ সালে মাহমুদ আল খতিবের পর প্রথম মিশরীয় হিসেবে বর্ষসেরা ফুটবলার মনোনীত হয়েছিলেন। সেই কীর্তি ভেঙে এবার টানা দু’বার এই পুরস্কার জয় প্রমাণ করে, সালাহ কেবল মিশরের ইতিহাসেই নয়, আফ্রিকার ইতিহাসেরই অন্যতম সেরা এক ফুটবলার।

গত মৌসুমে লিভারপুলের হয়ে সব ধরনের প্রতিযোগিতায় সালাহ সর্বোচ্চ ৪৪ গোল করেছিলেন। এ্যানফিল্ডে এসে প্রথমবারই এই ধরনের সাফল্য সকলকে মুগ্ধ করেছে। এবারের মৌসুমেও প্রিমিয়ার লিগে এ পর্যন্ত করেছেন ১৩টি গোল। এদিকে অবামেয়াং সালাহ’র থেকে লিগে এক গোল বেশি করে টটেনহ্যাম হটস্পার তারকা হ্যারি কেনের সাথে ১৪ গোল নিয়ে লিগে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসন ধরে রেখেছেন।

২০১০ সালে কায়রো ভিত্তিক ক্লাব এল মোকাওলুন দিয়ে পেশাদার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করা সালাহ ২০১২ সালে সুইজার্যান্ডের ক্লাব বাসেলে যোগ দেন। দুই বছর পর ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে চেলসিতে যোগ দিলেও পরের বছরই ধারে ইতালিয়ান ফিওরেন্টিনা ও রোমায় খেলতে যান। ২০১৭ সালে রোমা থেকে লিভারপুরে যোগ দিয়ে নিজের যোগ্যতার শতভাগ প্রমাণ দেন।

এবারের পুরস্কারের তালিকায় বর্ষসেরা আফ্রিকান কোচ মনোনীত হয়েছেন মরক্কো জাতীয় দলের কোচ হার্ভি রেনার্ড। নারীদের বিভাগে বর্ষসেরা খেলোয়াড় ও কোচ মনোনীত হয়েছেন যথাক্রমে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রেসটিনা কাগাতলানা ও ডিসায়রি এলিস। এদিকে এই মঙ্গলবার রাতেই ডাকারে অনুষ্ঠিত কনফেডারেশন অব আফ্রিকান ফুটবলের (সিএএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় একমাত্র প্রতিদ্বন্দী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১৬-১ ভোটে পিছনে ফেলে ২০১৯ আফ্রিকান নেশন্স কাপ আয়োজনের স্বত্ব লাভ করে মিশর। প্রাথমিকভাবে ক্যামেরুন এই দায়িত্ব পেলেও প্রস্তুতিতে বিলম্ব ও নিরাপত্তা জনিত কারণে মধ্য আফ্রিকার দেশটি থেকে টুর্নামেন্ট সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত নেয় আয়োজক কর্তৃপক্ষ। ২০২১ সালে ক্যামেরুনে অনুষ্ঠিত হবে আফ্রিকান ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর। যদিও ১৫ ভোটের ব্যবধানে মিশরের জয়টা ছিল একেবারেই অপ্রত্যাশিত।