সাতক্ষীরা জেলার সর্ববৃহৎ বাণিজ্য কেন্দ্র তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজার। প্রতি বছর সরকার বাজার থেকে লক্ষ লক্ষ টাকার রাজস্ব আয় করলেও বাজারের উন্নয়নে নেই কোন উদ্যোগ। বর্ষা মৌসুমের শুরু হতে না হতেই পাটকেলঘাটার জনগুরত্বপূর্ণ সড়কগুলো মানুষের চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ময়লা আবর্জনা ফেলার জায়গা না থাকা অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা ও দোকানপাট নির্মাণে বৃষ্টির শুরুতেই বছরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো পানি কাদায় চলাচলে অসুবিধার সৃষ্টি হয়। রাস্তার বিভিন্ন জায়গায় বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে শুষ্ক মৌসুমের সময় ধুলো-বালিতে নাকানি-চুবানি পোহাতে হয় জনসাধারণের। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে এ সকল রাস্তা ব্যবহারকারী হাজার হাজার মানুষ।
আশরাফ হোসেন, নয়ন ইসলাম, সোহাগ হোসেন, তীর্থ কুমার, সুমন রায়সহ অনেকেই জানান, প্রতি বুধ ও শনিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন হাজার হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা পাটকেলঘাটায় আসে। এলাকার স্কুল-কলেজের শত শত ছাত্র-ছাত্রী এসব পথে যাতায়াত করে। চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে তাদের সাথে সাধারণ মানুষেরও।
তারা বলেন, জনগুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক গুলোর মধ্যে পাটকেলঘাটার কলেজ রোড, গোডাউন রোড, পাটকেলঘাটা হাইস্কুল রোড, পাঁচ রাস্তা মোড়, ওভারব্রিজ রোড, কাউন্সিল রোড, গাড়ীহাটা রোড, কালীবাড়ী রোড, পল্লী বিদ্যুৎ রোডসহ বেশ কয়েকটি রোডের ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তার দু’ধারে পানি জমে ময়লা জমে দুর্গন্ধর সৃষ্টি হচ্ছে। পানি সরানোর ব্যবস্থা না থাকায় একটু বর্ষায় রাস্তাগুলোতে কোথাও হাঁটু পানি জমে যায়।
ভুক্তভোগীরা জানান, ময়লা আবর্জনা পচে দুর্গন্ধের মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হয় সকলের। প্রতিনিয়ত দূর-দুরন্ত থেকে বাজারে আসা অনেক ক্রেতা-বিক্রেতাকে বাজারে এসে অনেক সময় কাদামাটি মেখে বাড়ি যেতে হয়। কাউন্সিল রোড কয়েক যুগেও সংস্কার করা হয়নি। এ রোডে কয়েকটি মিল কল-কারখানাসহ ছোট বড় প্রায় ২০টি গোডাউন আছে। প্রতিদিন শতাধিক মালবোঝাই ট্রাক এ পথে আসা যাওয়া করে এক কথায় সবগুলো রাস্তাই চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
এছাড়া পল্লী বিদ্যুৎ রোডেও জনসাধারণ এবং যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তবে চরম বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে হাজার হাজার ত্রেতা-বিক্রেতা সহ স্কুল-কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীদের। হর হামেশা ছোটখাটো দুর্ঘটনা লেগেই আছে। তাছাড়া বাজারের বিভিন্ন রাস্তার উপরে হাট বসার কারণে চরম যানজটের সৃষ্টি হয়।
এ বিষয়ে সরুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও পাটকেলঘাটা বাজার কমিটির সভাপতি মো. মতিয়ার রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় এবং রাস্তায় কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় রাস্তাগুলোর এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। সরকার প্রতি বছর পাটকেলঘাটা বাজার থেকে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব আদায় করে। কিন্তু বাজারের তেমন উন্নয়ন হয় না। তিনি রাস্তাগুলি সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তালা উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুল মজিদ মোল্যা জানান, পাটকেলঘাটা বাজারের রাস্তাগুলো অনুমোদন হয়েছে। খুব তাড়াতাড়ি টেন্ডার হবে।
সাতক্ষীরা জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়ণ চন্দ্র সরকার জানান, পাটকেলঘাটা বাজারের দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণতা খুব শীঘ্রই সমাধান হবে। পাটকেলঘাটা বাসির দীর্ঘদিনের আশা পূরণ হবে। ঠিকাদার সিলেকশন হলেই কাজ শুরু হবে।
ইত্তেফাক/এমআর