বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এক দরজায় সকল সেবা বা ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করিতে যাইতেছে। সেখানে বিনিয়োগকারীরা আপাতত অনলাইনে একইসঙ্গে ১৮টি রাষ্ট্রীয় পরিষেবা গ্রহণ করিতে পারিবেন, পরে পরিষেবার সংখ্যা আরও বাড়িবে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী এই সেবার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করিতে পারেন, তবে ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে ওয়ান স্টপ সার্ভিস বা ওএসএস চালু হইয়াছে। ওএসএস চালু করিতে বিডা ইতোমধ্যে একটি ওয়েবসাইটও খুলিয়াছে। নূতন পদ্ধতিতে বিনিয়োগকারীরা বিডার ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আবেদন করিতে পারিবেন। এই সেবা বিনিয়োগকারীদের সময় ও ব্যয় কমাইবে। বিনিয়োগকারীকে সশরীরে ভিন্ন ভিন্ন সংস্থায় যাইতে হইবে না, বিভিন্ন ধরনের অনুমোদনের ফি বা মাসুলও প্রদান করিতে পারিবেন অনলাইনেই। ফলে, অবৈধ লেনদেনেরও সুযোগ থাকিবে না।
এইদিকে, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) বলিতেছে তাহাদেরও এই সেবা চালুর প্রস্তুতি প্রায় শেষ পর্যায়ে। সংস্থা দুইটির ওএসএস কেন্দ্র চালু হইলে বিভিন্ন সেবার জন্য এক মাস হইতে চার বত্সর পর্যন্ত অপেক্ষার দিন শেষ হইবে। এই কেন্দ্রে বিনিয়োগকারীরা সকল সেবা একদিন হইতে ৪৫ দিনের মধ্যেই পাইবেন। ইতোমধ্যে সংস্থা দুইটি বিধিমালাও প্রণয়ন করিয়াছে। এই সেবা চালু করিতে কারিগরি দিক নিয়া বিডার সঙ্গে কাজ করিতেছে বিশ্বব্যাংকের একটি দল এবং বেজার সঙ্গে কাজ করিতেছে জাইকার একটি প্রতিনিধি দল। ওএসএস সেবা প্রদানকারী চারটি সংস্থার মধ্যে বেজা ও বিডা ছাড়াও বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেপজা) ও হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ রহিয়াছে। বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়নের জন্য ২০১৬ সনে বিনিয়োগ বোর্ড ও বেসরকারিকরণ কমিশন একীভূত করিয়া বিডা গঠন করা হইয়াছিল। সংস্থাটি ওএসএস চালু ও বিশ্বব্যাংকের সহজ ব্যবসা করার সূচকে উন্নতির জন্য কাজ করিতেছে। ইতোপূর্বে বিনিয়োগ বোর্ডে ওয়ান স্টপ সার্ভিস ছিল, কিন্তু সেখানে সেবা পাইতে বিড়ম্বনার কারণে ব্যবসায়ীরা তাহাকে ‘ফুল স্টপ সার্ভিস’ বলিয়া নিন্দামন্দ করিত। কিন্তু আইনি সমস্যা নিরসনে ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করিতে সরকার ইতোমধ্যে ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন করিয়াছে।
বিশ্বব্যাংকের সহজে ব্যবসা সূচক বা ডুইং বিজনেস ইনডেক্সে উন্নতির অংশ হিসেবে সরকার ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর উদ্যোগ নিয়াছে। ডুইং বিজনেস ইনডেক্সে ২০২১ সনের মধ্যে বাংলাদেশ কমপক্ষে ৯৯তম অবস্থানে আসিতে চায়। এই সূচকে এখন বাংলাদেশের অবস্থান ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১৭৬তম। এই জন্য ২৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দ্রুত সেবাদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম নিয়া কাজ চলিতেছে। অতীত রেকর্ড হইতে বোঝা যায় যে, ওয়ান স্টপ সার্ভিস শুনিতে মধুর লাগিলেও কার্যত গালভরা প্রচারণার কাজেই তাহা বেশি ব্যবহূত হইয়াছে। ইহার তুলনায় বরং সেবাদানকারী সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে ডিজিটালাইজড করা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করিতে পারিলে বিনিয়োগ উন্নয়নে উহা বেশি কার্যকর হইবে।
তবুও এই উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। কেননা, দেশের অর্থনীতির স্বস্তিকর অবস্থার মধ্যে নূতন বত্সর শুরু হইয়াছে। রপ্তানি খাত ঘুরিয়া দাঁড়াইয়াছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের মধ্যে, প্রবাসী আয় বাড়িতেছে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ খুবই ভালো অবস্থায়। বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাবও আসিতেছে। সরকারের পূর্ব মেয়াদে মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশের কাছাকাছিতে উন্নীত হইয়াছে। আমরা আশা করিব, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে সরকার দেশকে আরও আগাইয়া নিতে সক্ষম হইবে।