নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নোয়াখালী জেলার সোনাপুরে ১০১ একর জায়গার ওপর প্রতিষ্ঠিত। এটি বাংলাদেশের ২৭তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৫ম বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়; যার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে ২০০৬ সালে। বর্তমানে ১২টি ব্যাচে প্রায় ৫৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। তিনটি হল রয়েছে যার মধ্যে দুটি মেয়েদের আর অন্যটি ছেলেদের। যেখানে তিনটি হলে সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা ১০০০-১২০০ জন। বাকি ৪৩০০ শিক্ষার্থী প্রতিদিন শহর থেকে যাতায়াত করে থাকে। প্রধানতম সমস্যা হচ্ছে যে, যাতায়াতের জন্য বাস আছে মাত্র ১২টি। যে বাসগুলো দিয়ে মাত্র ৭০০-৭৫০ জন বসে যেতে পারে। ৪০০-৫০০ জন শিক্ষার্থী পেণ্ডুলামের মতো ঝুলে ঝুলে যায়। প্রশ্ন হচ্ছে, ২৩০০-২৪০০ শিক্ষার্থী কি পরিবহন খরচ দেয় না? অধিকাংশ বাস ছাড়ে মাইজদি থেকে, সেখান থেকেই বাসের সিট পূর্ণ হয়ে যায়, পৌর বাজার আসতে আসতে দরজায় দাঁড়ানোর জায়গাটুকু পর্যন্ত থাকে না। তারপর সিনেমা হল, বিশ্বনাথ, রশিদ কলোনি, হোয়াইট হলের শিক্ষার্থীরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয় অভিমুখী যেতে দেখে। পরের স্টেশন দত্ত বাড়ির মোড়, দত্তেরহাট, সোনাপুরের শিক্ষার্থীদের ৩ মাসে একবার বাসে ওঠার সুযোগ হয় কি না কে জানে। বাধ্য হয়ে অটো রিকশাতে করে যায়। গত বছর অটো রিকশায় করে যাওয়ার সময় নোবিপ্রবির ফার্মেসি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ফৌজিয়া আপুর মৃত্যু হয়েছিল। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুটি বাস এবং নতুন একটি শিডিউল দিয়েছিল। আমরা চাই না কোনো শিক্ষার্থীর মৃত্যুর মাধ্যমে নতুন বাস আমদানি হোক। আমরা আশা করি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
জোবায়ের মাসুম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়