দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াহিদা খানম ও তার বাবার ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি উপজেলা যুবলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) আসাদুল হককে (৩৫) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অসুস্থ বোধ করায় শুক্রবার সন্ধ্যায় রংপুর র্যাব-১৩ এর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেনের পূর্বে অসুস্থ হয়ে পরেন আসাদুল। তাৎক্ষনিক রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেতাকে ভর্তি করা হয়। তিনি বর্তশানে রমেক হাসপাতালের ২য় তলার মেডিসিন বিভাগের ১ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সেখানে র্যাবের নজরদারীতে ছলছে আসাদুলের চিকিৎসা।
শনিবার সকালে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ফরিদুল ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, আসাদুল হক শ্বাসকষ্ট নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টায় রংপুরের র্যাব-১৩ এর পক্ষ থেকে যে সংবাদ সম্মেলন করা হয় সেখানে গ্রেফতার অপর দুই আসামিকে হাজির করা হলেও আসাদুলকে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, গত বুধবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে দুর্বৃত্তরা ঘোড়াঘাট উপজেলা পরিষদ চত্বরে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের সরকারি বাসভবনে প্রবেশ করে। হত্যার উদ্দেশ্যে তারা ইউএনও ওয়াহিদা খানম ও তার বাবা ওমর আলীকে কুপিয়ে ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
পরে সকালে আহত বাবা-মেয়েকে প্রথমে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। পরে ইউএনও ওয়াহিদাকে বিমান বাহিনীর এয়ার এ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নেয়া হয়। তিনি এখন ঢাকার আগারগাঁওয়ে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার বাবা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এ হামলার ঘটনায় ইউএনও ওয়াহিদার ভাই শেখ ফরিদ বাদী হয়ে গত ৩ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে ঘোড়াঘাট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
এদিকে শুক্রবার দিনভর অভিযান চালিয়ে ৬জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আটককৃতরা হলো, ঘোড়াঘাট উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক (বহিষ্কৃত) জাহাঙ্গীর আলম (৪২), উপজেলা যুবলীগের সদস্য (বহিষ্কৃত) আসাদুল হক (৩৫), শিংড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ রানা (৪০), নৈশপ্রহরী নাহিদ হোসেন পলাশ (৩৮), রং মিস্ত্রি নবিরুল ইসলাম (৩৫) ও একই এলাকার সান্টু চন্দ্র দাস (২৮)।
পরে আসাদুল হক, নবিরুল ইসলাম ও সান্টু চন্দ্র দাস র্যাবের কাছে ইউএনওর ওপর হামলার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।
র্যাব জানায়, প্রাথমিক স্বীকারোক্তিতে তারা চুরির উদ্দেশ্যে ইউএনও ওয়াহিদা খানমের বাসায় যায় বলে জানিয়েছে। এদের মধ্যে নবিরুল ইউএনও ওয়াহিদা খানমের মাথায় আঘাত করে। ঘোড়াঘাট থানায় আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে মামলা রয়েছে।
ইত্তেফাক/এসি