আড়াইহাজার ও রামচন্দ্রদী স্টিল ব্রিজে নিত্য যানজট

নারায়ণগঞ্জের সড়ক ও জনপদ বিভাগের আওতাধীন আড়াইহাজার উপজেলা সংলগ্ন দক্ষিণপাড়া স্টিল ব্রিজ ও গোপালদী পৌর সভার রামচন্দ্রদী স্টিল ব্রিজে ট্রাফিক পুলিশ মোতায়েনের দাবি তুলেছেন আড়াইহাজারবাসী। 

সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিন যাবৎ রামচন্দ্রদী ব্রিজ থেকে চালার চক পর্যন্ত গিয়ে ঠেকেছে যানজট। গ্রামের একমাত্র রাস্তায় ভয়াবহ যানজটের কারণে সীমাহীন ভোগান্তিতে পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। প্রতিদিন যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ স্টিল ব্রিজের কারণে এই যানজটের সৃষ্টি বলে জানান এলাকাবাসী। একটি দক্ষিণপাড়া স্টিল ব্রিজ। অন্যটি রামচন্দ্রদী স্টিল ব্রিজ। দুটি ব্রিজই অত্যন্ত সরু। সিঙ্গেল ওয়ে। ব্রিজ দুটি সিঙ্গেল ওয়ে হলেও যানবাহন চলাচল করে ডাবল ওয়ে। একটি বাস বা ট্রাক ব্রিজে উঠলে মানুষ হেঁটে যাওয়ারও জায়গা থাকে না। রেলিং নেই। হেঁটে চলতে গিয়ে মানুষ দুর্ঘটনায় পড়েন। প্রতিমাসে কমপক্ষে ২০-২৫ জন লোক ব্রিজ থেকে পড়ে আহত হন। এই বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগের কোনো মাথা ব্যাথা নেই বলে জানান এলাকাবাসী। 

গোপালদীবাজার, রামচন্দ্রী, বিশনন্দি, মানিকপুর বাজার ও আশপাশ গ্রামের অধিবাসীরা জানান, আড়াইহাজার উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী বিশনন্দি ইউনিয়নে চলাচলের রাস্তা ছিল ঘুরতি পথে। সাবেক এমপি আঙ্গুর কড়ইতলায় এই বেইলি ব্রিজটি নির্মাণ করেছিলেন। তখনও কড়ইতলায় গুদারা চলতো। এরপর ব্রিজটি পুরোপুরি চালু হলে কড়ইতলা থেকে বিশনন্দি ও মানিকপুর পর্যন্ত বেবি-ট্যাক্সি চলতো। কড়ইতলা থেকে বরাবর মানিকপুর বাজার পর্যন্ত বাইপাস সড়ক নির্মাণের পর জনগণের চলাচল সহজ হয়। ফলে বাসসহ সব ধরনের যানবাহন চলাচল করছে। 

অনুসন্ধান করে জানা গেছে, আড়াইহাজার টু বাঞ্ছারামপুর সড়ক চালু হলেও এই সড়কের দুটি পয়েন্টের দুটি সিঙ্গেল ওয়ে স্টিল ব্রিজ নিয়ে কেউ মাথা ঘামাননি। ফেরিঘাট চালুর সঙ্গে সঙ্গে বা আগে এই ব্রিজ দুটি ভেঙ্গে নতুন ব্রিজ নির্মাণ করা সমীচিন ছিল। তা কেন হয়নি? প্রশ্নটি এখন সবার। এত উন্নয়ন হল, সড়ক প্রশস্ত হল। অথচ ব্রিজ দুটি সিঙ্গেল ওয়েই রয়ে গেল। পরিণতিতে এখন প্রতিদিন যানজটের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

এই ব্যাপারে নারায়ণগঞ্জ-২ আসন আড়াইহাজারের সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, আমি এই বিষয়ে সড়ক ও জনপদ বিভাগে একাধিকবার আলোচনা করেছি। আশাকরি, দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।

নারায়ণগঞ্জের সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. কাফি হোসেন জানান, চালকরা নিয়ম-নীতি না মানার কারণে এই সমস্য সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়াও ২-আড়াইহাজার মাসের মধ্যে রামচন্দ্রদী ব্রিজের টেন্ডার হওয়ার কথা রয়েছে।

ইত্তেফাক/কেকে