গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ ভাঙচুর, বিজিবি মোতায়েন

টানা চতুর্থ দিনের মতো রাজধানীসহ সাভার ও গাজীপুরে গার্মেন্টস শ্রমিকদের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। সাভারের বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষ হয়। পুলিশসহ অন্তত অর্ধশতাধিক শ্রমিক আহত হয়েছেন। ২টি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ও ভাঙচুর এড়াতে ২৫টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে নামানো হয়েছে বিজিবি। গাজীপুরে অর্ধশতাধিক কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ, ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। একটি কারখানার ২/৩টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয় শ্রমিকরা। পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়। সেখানেও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ভাঙচুরের আশঙ্কায় শতাধিক গার্মেন্টেসে ছুটি ঘোষণা করা হয়। সিদ্ধিরগঞ্জেও দুইটি গার্মেন্টসের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করেছে। এদিকে আগামী এক মাসের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণ করে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

শিল্পাঞ্চল সাভার-আশুলিয়ায় নতুন ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে টানা চতুর্থ দিনের মতো বিক্ষোভ করেছে তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। গতকাল বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, হেমায়েতপুর, উলাইল, বাইপাইল-আব্দুল্লাহপুর সড়ক, বিশমাইল-জিরাবো সড়ক, কাঠগড়া, আশুলিয়া, জামগড়া, নরসিংহপুর, জিরাবোসহ প্রায় ১৫টি স্থানে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধের চেষ্টা চালায়। এতে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এসময় পুলিশ টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, জলকামান ও লাঠিচার্জ করে তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। সকাল ৮টা থেকে শুরু করে দুপুর দুইটা পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে থেমে থেমে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সাভার আশুলিয়ার প্রায় ২৫টি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণাসহ হেমায়েতপুরে অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ ও ডার্ড লিঃ নামের দুটি কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় দুই প্লাটুন বিজিবি।

শিল্প পুলিশ ও বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন ঘোষিত মজুরি কাঠামোতে বৈষম্য করা হয়েছে। তারা এটি সংশোধনের দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করছে। গতকাল সকাল ৮টায় সাভারের উলাইল এলাকার স্ট্যান্ডার্ড স্টিচেচ লিমিটেড কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগদানের জন্য কারখানায় আসে। এসময় প্রতিষ্ঠানটির মূল ফটকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা জানিয়ে একটি নোটিশ ঝুলিয়ে দেয় কর্তৃপক্ষ। কারখানা বন্ধের নোটিশ দেখে শ্রমিকরা কারখানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা কারখানাটিতে ভাঙচুরের চেষ্টা করলে কারখানার মালিকপক্ষ এবং পুলিশ সদস্যরা তাদের ধাওয়া দেয়। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়কটি অবরোধ করে রাখে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ারশেল, জলকামান ও লাঠিচার্জ করে শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এসময় শ্রমিক বিক্ষোভের আশঙ্কায় স্থানীয় আল-ইসলামসহ বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ।

একই দাবিতে পার্শ্ববর্তী আল-মুসলিম গ্রুপের প্রায় ২০ হাজার শ্রমিক সকাল ৮টা থেকে কারখানার ভিতরে কর্মবিরতি পালন করতে থাকে। কিন্তু মালিকপক্ষ তাদের দাবির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় সকাল ৯টার দিকে সকল শ্রমিক একযোগে কারখানা থেকে বের হয়ে আসে। এসময় বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা ঢাকা-আরিচা মহসড়কে অবস্থান নিলে যানচলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় মহাসড়কটিতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসময় দুই প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে শ্রমিকরা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। পুলিশ শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ারশেল, জলকামান ও লাঠিচার্জ করে। এতে শ্রমিকরা পিছু হটলেও পরবর্তীতে তারা গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে আবারও সড়ক অবরোধ করে। খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে পুলিশ শ্রমিকদেরকে ছত্রভঙ্গ করে দিলে তারা পুনরায় সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে সড়ক অবরোধ করে। এভাবে সকাল ৯টা থেকে দুপুর দুইটা পর্যন্ত দফায় দফায় সড়ক অবরোধ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশসহ অন্তত অর্ধশত শ্রমিক আহত হয়। আহতদের প্রাথমিক চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

বিক্ষুদ্ধ একাধিক শ্রমিক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নতুন মজুরি কাঠামোতে হেলপারদের বেতন তিন হাজার টাকা বাড়লেও অপারেটরদের বেড়েছে মাত্র এক হাজার টাকা। কারখানার ভিতরে মোবাইল নিতে না দেওয়ায় আমরা অসুস্থ হলে কিংবা কেউ মারা গেলেও আমাদের পরিবার তাত্ক্ষণিক সে খবরটিও পাবে না।

শিল্প পুলিশ-১ এর পরিচালক সানা শামিনুর রহমান জানান, কারখানাগুলোতে কাজের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সমস্যা সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে মজুরি কাঠামোর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এসময় তিনি সরকারের ওপর আস্থা রেখে শ্রমিকদের কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, চলমান শ্রমিক বিক্ষোভে মঙ্গলবার শ্রমিক পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় মোঃ সুমন খাঁ (২৩) নামে আনলিমা ড্রাইং লিঃ পোশাক কারখানার এক শ্রমিক নিহত হয়।

গাজীপুর প্রতিনিধি জানান, গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় বেতন বৈষম্যের প্রতিবাদে গার্মেন্টস শ্রমিকরা বুধবারও বিক্ষোভ করেছে। কয়েকটি স্থানে শ্রমিকদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিক্ষোভ দমাতে প্রায় শতাধিক গার্মেন্টেসে ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন গাজীপুর শিল্প এলাকায় ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকাল থেকেই গাজীপুর মহনগরীর নাওজোড়, ভোগড়া, কোনাবাড়ি, বোর্ডবাজার, গাজীপুরা ও টঙ্গী এবং সদর উপজেলার মনিপুর এলাকার অর্ধশতাধিক গার্মেন্টসে শ্রমিকরা বেতন বৈষম্যের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ শুরু করে। সকাল ১০টার দিকে হাজার হাজার শ্রমিক মহানগরীর গাজীপুরা, বড়বাড়ি, ও বোর্ডবাজার এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এবং নাওজোড় এলাকায় টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। তারা বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক অচল করে দেয়। এতে বেশ কিছু সময়ের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে পেয়ে পুলিশ শ্রমিকদের মহাসড়কের অবরোধ তুলে নেয়ার অনুরোধ জানায়। শ্রমিকরা অবরোধ তুলতে না চাইলে পুলিশ বড়বাড়ি এলাকায় শ্রমিকদের প্রথমে ধাওয়া ও পরে টিয়ারসেল ছুড়ে সরিয়ে দেয়। অন্যান্য এলাকাতেও পুলিশ আলাপ-আলোচনা করে শ্রমিকদের সড়ক-মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন কারখানায় বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন গার্মেন্টস এলাকায় বডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করেছে।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের বাসন থানার ওসি মোঃ মোক্তার হোসেন জানান, সকালে নগরীর নাওজোড়, কড্ডা, ভোগড়া বাইপাস এলাকার বিভিন্ন করাখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে নেমে আসে। এ সময় তারা পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদের বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে শ্রমিকরা কয়েকটি গার্মেন্ট ভবনের কাচ ভাঙচুর করে।

টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, সকাল ৮টার দিকে শ্রমিকরা কাজে যোগ না দিয়ে সিটি করপোরেশনের গাজীপুরা এলাকায় বিক্ষোভ শুরু করে। এক পর্যায়ে বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন কারখানার সামনে গিয়ে শ্রমিকদের বের করে আনার চেষ্টা করে। শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে কয়েকটি কারখানা ভবনের গ্লাস ভাঙচুর করে। পরে শ্রমিকরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে। পুলিশ গিয়ে টিয়ারসেল ছুড়ে তাদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে আধা ঘন্টা পর যানবাহন চলাচল শুরু হয়।

টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামাল হোসেন জানান, টঙ্গী বিসিক শিল্প এলাকায় সকাল থেকে শ্রমিকরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। এসময় উত্তেজিত শ্রমিকরা ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে প্রায় ১৫টি কারখানার ভবনের কাচ ভাঙচুর করে। এছাড়া শ্রমিকরা কারখানার ২/৩টি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তিনি আরো জানান, দুপুরের দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ওইসব এলাকার অধিকাংশ কারখানা বুধবারের জন্য ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। 

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, পোশাক কারখানার শ্রমিকদের বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে গাজীপুরের টঙ্গী, গাজীপুরা, হোতাপাড়া, কোনাবাড়ি ও মৌচাক এলাকায় ৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে বুধবার সকাল থেকে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন শুরু করেছে।

রাজধানীর কালশী, উত্তরখান ও দক্ষিনখান এলাকার সড়কে গতকাল সকাল থেকেই অবস্থান নিয়ে শ্রমকিরা বিক্ষোভ করেছেন। তবে রাজধানীর কোথাও কোনো সংঘর্ষ বা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। শ্রমিকদের বুঝিয়ে রাস্তা থেকে তুলে দিয়েছে পুলিশ।

পল্লবী থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, শ্রমিকরা সকাল ৯টার দিকে ২২তলা গার্মেন্টের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা সড়কে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। দুপুর ১টার দিকে পুলিশের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নেয়।

পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইমরানুল হাসান প্রিন্স জানান, শ্রমিকরা সকাল থেকেই রাস্তা অবরোধ করে তাদের ন্যায্য বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছিল। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আস্বস্ত করে যে, সরকারি মজুরি কাঠামো অনুযায়ী তারা যেন বেতন পায় সেই বিষয়টি তারা নজরদারি করবে।

পুলিশ জানায়, উত্তর খান ও দক্ষিণ খান এলাকার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা সকালে ছোট ছোট দলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে এসে বিমান বন্দরের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। তবে পুলিশের বাধায় তারা প্রধান সড়কে আসতে পারেননি।

আগামী এক মাসের মধ্যে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি শ্রমিকদের ধৈর্য ধারণ করে কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। গতকাল বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী নতুন বেতন কাঠামোর কারণে কোনো শ্রমিকের বেতন কমলে তা আগামী মাসের বেতনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিশোধ করা হবে। তিনি আরও বলেন, প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পরও কারখানা ভাঙচুর কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই ধরনের আন্দোলনে অনেক সময় বাইরের লোক ঢুকে যায়। সে বিষয়টি সরকার কঠোরভাবে মনিটর করছে।

সিদ্ধিরগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, সিদ্ধিরগঞ্জে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দুটি গার্মেন্টস কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন ও বিক্ষোভ করেছে। পুলিশের বাধার মুখে সড়ক অবরোধ করতে না পারলেও কারখানার অভ্যন্তরে বিক্ষোভ করেছে। উভয়  কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।