পেস চ্যালেঞ্জের সামনে বাংলাদেশ

বাংলাদেশের মতোই ঘরের মাঠে মূলত স্পিননির্ভর উইকেটে টেস্ট খেলে থাকে শ্রীলঙ্কা। তবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আসন্ন তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সেই পথে হাঁটবে না লঙ্কানরা। চিরাচরিত শক্তির জায়গা ছেড়ে টাইগারদের হারাতে পেস আক্রমণে ভরসা করবে স্বাগতিকরা। এজন্য শক্তিশালী পেস ইউনিট গঠন করছে দলটি।

মুমিনুল-মুশফিকদের পেছনে লেলিয়ে দিতে এক ঝাঁক গতিময় তরুণ পেসার নিয়ে ২৩ সদস্যের টেস্ট পুল ঘোষণা করেছে লঙ্কানরা। বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের জন্য আগামী ১০ সেপ্টেম্বর শুরু হবে শ্রীলঙ্কার অনুশীলন। পেসারদের দিয়ে মুমিনুল বাহিনীকে ঘায়েলের পরিকল্পনাও প্রস্তুত। পেস সহায়ক ক্যান্ডির পাল্লেকেলেতে খেলা হবে প্রথম দুটি টেস্ট। তৃতীয় টেস্ট হতে পারে কলম্বোর সিংহলিজ স্পোর্টস (এসএসসি) গ্রাউন্ডে।

টাইগারদের বিরুদ্ধে পেসাররাই হবে শ্রীলঙ্কার মূল শক্তি। লঙ্কান দৈনিক সানডে আইল্যান্ডকে এমনটাই বলেছেন শ্রীলঙ্কার প্রধান নির্বাচক আশান্থা ডি মেল। তিনি বলেছেন, ‘আমাদের চিন্তা হচ্ছে গতি দিয়ে তাদের হারানো। নিশ্চিতভাবেই এবার স্পিন হবে না। বাংলাদেশের ভালো স্পিন আক্রমণ আছে। যেখানে আমাদের খুব ভালো ফাস্ট বোলার আছে। তাই নিজেদের শক্তিতে নির্ভর করাই বিচক্ষণের কাজ হবে। আমরা হয়তো স্কোয়াডে পাঁচ জন পেসার রাখবো। কোচরা এটাই চিন্তা করছে।’

টেস্ট পুলে ডাক পাওয়া তরুণ পেসারদের নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত প্রধান নির্বাচক। আশান্থা ডি মেল বলেন, ‘মিনোদ ভানুকা খুব প্রতিশ্রুতিশীল। সে খুব আক্রমণাত্মক এবং এমন আক্রমণাত্মক মানসিকতা কাউকে দেখা দারুণ। সান্থুশ গুনাথিলাকা ছয় ফুট দুই ইঞ্চি, জোরে বল করতে পারে এবং স্বছন্দ অ্যাকশন। সে ব্যাটিংয়েও ভালো। তারপর আছে লাহিরু উদারা, সে খুবই চমকপ্রদ। আমরা তরুণদের স্কোয়াডে রাখছি, যাতে তারা নিজেদের মেলে ধরতে পারে। কোচদের সঙ্গে আমরা অনেক ঘরোয়া ক্রিকেট দেখেছি। আমাদের প্রশংসা করা উচিত তারা যা করেছে এবং তারপর দেখতে হবে গতিময় উইকেট কোনোটি।’

মিনোদ ভানুকা, সান্থুশ গুনাথিলাকা, লাহিরু উদারা ছাড়াও লঙ্কান দলে আছেন সুরঙ্গা লাকমল, লাহিরু কুমারার মতো অভিজ্ঞ পেসার। স্পিন বিভাগে থাকছেন অভিজ্ঞ দিলরুয়ান পেরেরা এবং চায়নাম্যান সান্দাকান।

শ্রীলঙ্কা সফর

শ্রীলঙ্কার টেস্ট পুল:

দিমুথ করুনারত্নে, (অধিনায়ক), ওশাডা ফার্নান্দো, লাহিরু উদারা, কুশল মেন্ডিস, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস, দিনেশ চান্দিমাল, কুশল পেরেরা, নিরোশান ডিকওয়েলা, মিনোদ ভানুকা, লাহিরু থিরিমান্নে, সান্থুশ গুনাথিলাকা, কামিন্দু মেন্ডিস, ধনঞ্জয়া ডি সিলভা, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, দিলরুয়ান পেরেরা, লক্ষ্মণ সান্দাকান, লাসিথ এম্বুলদেনিয়া, দুভিন্দু তিলকারত্নে, সুরঙ্গা লাকমল, লাহিরু কুমারা, বিশ্ব ফার্নান্দো, কাসুন রাজিথা, আসিথা ফার্নান্দো।

ইত্তেফাক/এএম