নিয়তির নির্মম পরিণতির শিকার তিন অন্ধ বোন কানন, মলিনা ও মিরা। অভিশপ্ত জীবনের গ্লানি নিয়ে তারা এভাবেই সমাজে বেড়ে উঠেছেন। বাল্য ও কৈশোর পেরিয়ে এ তিন অন্ধ বোনের যৌবন এখন শেষ প্রান্তে। প্রকৃতির নিয়মানুযায়ী সমাজের অন্য দশজন নারীর মতো তাদেরও সংসার করার কথা ছিল। কিন্তু বিধিবাম। তাদের এই অভিশপ্ত অন্ধ জীবন সব উদ্দীপনা ও সুখের অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিয়তির করুন পরিণতির শিকার হয়ে আজ তারা অসহায় জীবন-যাপন করছে। অবহেলায় এ সমাজে বসবাস করছেন। অন্ধ তিন বোন অভিশপ্ত এ জীবন থেকে মুক্ত হয়ে দেখতে চান পৃথিবীর আলো। চান অন্য দশজন নারীর মতো সুখী ও সুন্দর জীবন।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ঘাগড়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা ভানু প্রতাপ বণিকের পাঁচ মেয়ে কানন, মলিনা, মিরা, রমা ও ইতি। বড় মেয়ে কানন (৩৮), দ্বিতীয় মেয়ে মলিনা(৩৫) ও তৃতীয় মেয়ে মিরা(৩৩) জন্ম থেকেই অন্ধ। অপর দুই মেয়ে রমা ও ইতি। রমাও (৩০) দীর্ঘদিন প্যারালাইসিসে পঙ্গু হয়ে অন্ধ তিন বোনের সঙ্গে বাবার বাড়িতেই বসবাস করছেন। অপর বোন ইতির বিয়ে হয়েছে।
এদিকে বাবা মুক্তিযোদ্ধা ভানু প্রতাপ বণিকও কয়েক বছর আগে প্যারালাইসিসে আক্রান্ত হয়ে বিনা চিকিৎসায় মারা যান। অন্ধ তিন বোন আর এক পঙ্গু বোনের দুই ভাই শিবু বণিক আর খোকন বণিক। এদের মধ্যে গত কয়েক বছর ধরে শিবু বণিকেরও বসন্ত রোগে এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। দুই বছর আগে তাদের মা মারা যান।
আরও পড়ুন: এক মাছ ৫৫ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি!
অন্ধ তিন বোন ও প্রতিবন্ধী বোনের একমাত্র সংসারে উপার্জনশীল ভাই শিবু বণিক কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘এতদিন নিজে উপার্জন করে তাদের দেখাশুনা করে এসেছি কিন্ত এখন আমি নিজেই এক চোখ অন্ধ হয়ে বসে আছি। বোনদের নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের কোন অর্থ-সম্পদ নেই। জায়গা সম্পদ বলতে শুধু ঘরের ভিটেটাই একমাত্র সম্বল। আর থাকার ঘরও নেই। এক ঘরেই তারা গাদাগাদি করে বসবাস করছে। এদিকে বোনদের চিকিৎসা তো দুরের কথা তিনবেলা তাদের খাওয়াতেও পারি না। আমিও অচল। এ জন্য কোন কাজকর্ম করতে পারছিনা। গতকয়েক বছর আগে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে নিয়েছিলাম তাদের চিকিৎসার জন্য। ডাক্তাররা বলেছেন-উন্নত চিকিৎসা করালে তারা অন্ধত্ব অভিশপ্ত থেকে মুক্তি পাবে। পাবে পৃথিবীর আলো দেখতে। উন্নত চিকিৎসা করানোর জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। ব্যয়বহুল হওয়ার কারণে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে অন্ধ তিন বোনের দেহ ও মনে পর্যাপ্ত উৎসাহ-উদ্দীপনা ও মনোবল রয়েছে। অন্ধত্বের অভিশাপ মুক্ত হলে কাজের মাধ্যমে তারা বাঁচতে পারবে। এই অসহায় তিন বোনের একটাই আর্তি কোন দিন তারা পৃথিবীর আলো দেখতে পারবে কি? এই অন্ধ তিন বোনের দৃষ্টির জন্য দেশ বরেণ্য কোন দানবীর ব্যক্তির আগমন ঘটবে কি? পরিশেষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে সাহায্যে চাইলেন অন্ধ তিন বোন কানন, মলিনা ও মিরা।
ইত্তেফাক/এএএম