জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হতে না হতেই মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এবার সিঙ্গাইরে আওয়ামী লীগের থেকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নামের তালিকা দীর্ঘ হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে কাকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে তা এখনো নিশ্চিত করে কেউ বলতে পারছেন না। তবে এখানকার এমপি খ্যাতনামা কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম যাকে যোগ্য মনে করবেন তাকেই মনোনয়নের ক্ষেত্রে সমর্থন করবেন বলে জানা গেছে। যে কারণে ইতোমধ্যে লবিং শুরু হয়েছে মমতাজ বেগমের মন জয় করতে। আর এ ক্ষেত্রে কারা হতে পারেন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থী?— এ গবেষণাই এখন চলছে এখানে ।
আওয়ামী লীগের ব্যানারে শোনা যাচ্ছে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম। তাদের মধ্যে রয়েছেন থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বলধারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল মাজেদ খান। মাজেদ খান বলেন, এবার ইচ্ছে পোষণ করলাম উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে। কারণ আমি ৩০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। ৬ বার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হয়েছি এবং ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু।
সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরও আছেন বর্তমানে উপজেলা পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনোয়ারা খাতুন। সিঙ্গাইর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি সভাপতি এবং নারী সংগঠনের সভাপতি ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত রয়েছেন তিনি। গতবার ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই তিনি এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে প্রস্তুতি নিয়েছেন। মমতাজ বেগম এমপির সফর সঙ্গী হিসেবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদান করে তিনি এলাকায় একজন পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকার আরেকটি নাম মো:সায়েদুল ইসলাম। তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক। বিএনপি শাসনামলে সিঙ্গাইর ডিগ্রি কলেজ ছাত্রলীগ সংগঠন যখন ছাত্রদল নেতাদের কাছে কোনঠাসা তখন তিনি ছাত্রলীগের হাল ধরেন এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলেন।
সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সিংগাইর কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি শহিদুর রহমান শহিদ। তিনি এমপি মমতাজ বেগমের ভাগ্নে। যার ফলে রাজনৈতিক ময়দানে রয়েছে তার ব্যাপক পরিচিতি।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের আরও কয়েকজন
আলী ইস্কান্দার আহমেদ:উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলী ইস্কান্দার আহমেদ। মানিকগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ৯০-এর নৌকার কাণ্ডারী মরহুম ডাক্তার আলী জিলকদ আহমেদের ছোট ভাই হিসেবে আলী ইস্কান্দারের প্রতি দলের একটি ‘সফ্ট কর্নার’ রয়েছে। এছাড়া তিনি এলাকার শিক্ষা ও মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত রয়েছেন।
প্রকৌশলী শাহাদত্ হোসেন:তিনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং জয়মন্টপ ইউনিয়ন পরিষদের দুইবারের বিপুল ভোটের ব্যবধানে নির্বাচিত চেয়ারম্যান। একজন দক্ষ চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিতি পাওয়া শাহাদত্ এবারে উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন।
শওকত হোসেন বাদল: উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত হোসেন বাদল ছোটবেলা থেকেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি চান্দহর ইউনিয়ন পরিষদের এবার দিয়ে দুইবারের চেয়ারম্যান, যিনি দলকে করেছেন সুসংগঠিত ।
মো: লুত্ফর রহমান: তিনি মানিকগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ কোর্টের একজন আইনজীবী এবং এপিপি। তিনি সিংগাইর ডিগ্রি কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই প্রগতিশীল রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি এবারে উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান বলে ঘোষণা দিয়েছেন যদি দল তাকে মনোনয়ন দেয়।
মো: রমজান আলী: তালেবপুর ইউনিয়ন পরিষদে এবারেও বিপুল ভোটের ব্যবধানে চেয়ারম্যান হয়েছেন তিনি। এবারে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করতে চান বলে জানা গেছে।