অপহরণে ৩৭দিন পর আশুলিয়া থেকে নববধূকে উদ্ধার

রংপুরের তারাগঞ্জে অপহরণের ৩৭দিন পর মদিনা খাতুন নামে এক নববধূকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ গত রবিবার রাতে তাকে উদ্ধার করে। এসময় অপহরণকারী হাফিজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ সোমবার আদালতের মাধ্যমে আটক অপহরণকারীকে রংপুর জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এর আগে গত ২ আগস্ট অপহরণের অভিযোগে মদিনা খাতুনের বাবা মোজাহার হোসেন তারাগঞ্জ থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। থানায় লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬ জুলাই তারাগঞ্জ উপজেলার ইকরচালি ইউনিয়নের মেনানগর গ্রামের মোজাহার উদ্দিনের কন্যা মদিনা খাতুন (১৮) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী নীলফামারী জেলার সদর উপজেলার চরাইখোলা গ্রামের আনারুল ইসলাম (২৮) সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের ১৫ দিন পর গত ৩১ জুলাই আনারুল ইসলামের ছোট বোনের স্বামী হাফিজুল ইসলাম নববধূ মদিনা খাতুনকে বাড়ি থেকে অপহরণ করে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এরপর থেকে আর তাদের কোন খোঁজ পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় মদিনার বাবা মোজাহার হোসেন গত ২ আগস্ট তার মেয়েকে হাফিজুল ইসলাম অপহরণ করেছে মর্মে এমন অভিযোগ এনে তারাগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর তদন্তকারী কর্মকর্তা তারাগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান মিজান অপহৃত নববধূকে উদ্ধার জন্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায়। কিন্তু বিষয়টি টের পেয়ে বারবার স্থান বদলায় চতুর হাফিজুল ইসলাম। অবশেষে গত রবিবার রাতে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকার আশুলিয়া এলাকার ভুয়াপাড়ার একটি বাসা থেকে নববধূ মদিনা খাতুনকে উদ্ধার করে পুলিশ। এসময় অপহরণকারী হাফিজুলকে আটক করে তারাগঞ্জ থানায় নেওয়া হয়। 

মদিনার বাবা মোজাহার হোসেন বলেন, ‘পারিবারিক ভাবে মেয়েকে বিয়ে দিলাম। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরেই জামাইয়ের লম্পট ভগ্নিপতি আমার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে পালিয়ে যায়। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য অনেক জায়গায় খোঁজ করে  না পেয়ে  তারাগঞ্জ থানায় অপহরণ মামলা দেই। আমি লম্পট হাফিজুলের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি চাই।’  

জানতে চাইলে তারাগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘অপহৃত মদিনাকে ঢাকার আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার আসামী হাফিজুলকে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়। ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও জবানবন্দির জন্য বিজ্ঞ বিচারকের কাছে পাঠানো হয়েছে।  

ইত্তেফাক/এসআই