র্যাব-১২, সিপিসি-১, কুষ্টিয়া ক্যাম্পের আভিযানিক দল অভিযান চালিয়ে জেলার কুমারখালী থানাধীন বাড়াদি গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের (৫১) বসতবাড়ী থেকে বিক্রি নিষিদ্ধ বিপুল পরিমাণ জীবন রক্ষাকারী সরকারী ঔষধ জব্দ করেছে। সোমবার ( ৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযান চালিয়ে র্যাব ওই ঔষধ জব্দ করে।
র্যাব জানায়, কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাড়াদি গ্রামের জনৈক রফিকুল ইসলামের বসতবাড়িতে সরকারী ঔষধ মওজুদ রাখার খবর পেয়ে দুপুর পৌনে ১ টার দিকে র্যাবের একটি টিম বাড়িটি ঘিরে ফেলে। এরপর বাড়ির মালিক রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতারের পর তার স্বীকারোক্তি মতে বাড়ির একটি ঘরের মধ্যে লুকিয়ে রাখা বিপুল পরিমাণ জীবন রক্ষাকারী সরকারী ঔষধ জব্দ করা হয়।
জব্দকৃত ঔষধের মধ্যে সেফট্রিয়াক্সেন (০১ গ্রাম) ইনজেকশন ২০২টি, স্বস্তি গর্ভ নিরোধক ইনজেকটেবলস (০১ মিঃ লিঃ ভায়াল) ২০১টি, ফ্লু ক্লক্সাসিলিন ট্যাবলেট (৫০০মিঃ গ্রাম) ২০০টি, এ্যাজিথ্রোমাইসিন ট্যাবলেট (৫০০মিঃ গ্রাম) ১৪০টি, এন্টিবায়োটিক কিলম্যাক্স ট্যাবলেট (৫০০মিঃ গ্রাম) ১৪০টি, কিটোনিক ট্যাবলেট (১০ মিঃ গ্রাম) ৬০০টি, সেফিক্সিম ক্যাপসুল (২০০মিঃ গ্রাম) ২১০টি, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ট্যাবলেট (৫০০মিঃ গ্রাম) ৭০০টি, জেএমআই ইনজেকশন (০১ এমএল) ৩০০টি, ও চোরাচালানকৃত ভারতীয় ঔষধ সিটিরিজাইন হাইড্রোক্লোরাইড (আইপি ১০ মিঃ গ্রাম) ট্যাবলেট ৩৬০০টি, ১টি মোবাইল ফোন, ২টি সীমকার্ড ও নগদ আটশত টাকা উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ঘটনার সাথে জড়িত গ্রেফতারকৃত আসামী মোঃ রফিকুল ইসলামকে কুমারখালী থানায় সোপর্দ করা হয়।
ধৃত আসামী কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাড়াদি গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমানের ছেলে। আলামতসহ ধৃত আসামীর বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী থানায় একটি বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। জব্দকৃত ঔষধের মূল্য কি পরিমান তা র্যাব তাৎক্ষনিক ভাবে জানাতে পারেনি। তবে ওই ঔষধের আনুমানিক মূল্য ১০/১২ লাখ লাখ টাকা হবে র্যাব সূত্র জানায়।
কুষ্টিয়া র্যাবের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, সরকারী ঔষধ কিভাবে আসামী রফিকুলের বাড়িতে পৌঁছালো তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরও যাদের নাম পাওয়া যাবে তাদেরকেও গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে র্যাবের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার জানান।
ইত্তেফাক/এসআই