বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে আবাসন প্রকল্পের বসতঘর

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে চারটি আশ্রয়ণ ও তিনটি আবাসন প্রকল্পের বসতঘরের টিনের চাল ও বেড়া ঝাঁঝরা হয়ে ছোট বড় অসংখ্য ছিদ্র হয়ে গেছে। প্রতিটি ঘরের দরজা, জানালা, খাম, খুঁটি ভেঙে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল আশ্রয়ণ প্রকল্প ১ ও ২, বস্তুল আবাসন প্রকল্প, দেশীগ্রাম ইউনিয়নের বড় মাঝদক্ষিণা আশ্রয়ণ প্রকল্প, কুমাল্লু আশ্রয়ণ প্রকল্প এবং মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়নের মাগুড়া আবাসন প্রকল্প ১ ও ২ ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ ঘরের চালের ওপর ও নিচে পলিথিন দিয়ে রাখা হয়েছে। আর যাদের পলিথিন কেনার সামর্থ্য নেই, তারা চালের ছিদ্র দিয়ে পড়া বৃষ্টির পানি হাঁড়ি-পাতিলে ধরার চেষ্টা করছেন।

জুব্বার আলী, আব্দুর রাজ্জাক, মান্নান ফকির, রফিকুল ইসলাম, ফেন্সি পারভিন, শাহানা খাতুন, রেবেকা খাতুন, জাবেদা খাতুন, নুরজাহানসহ আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের বেশ কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ায় তাদের সীমাহীন কষ্ট হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই চাল ও বেড়ার অসংখ্য ছিদ্র দিয়ে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। নিজেরা তো ভিজেই, সেই পানিতে ঘরের চাল, ডাল, কাপড়-চোপড়ও ভিজে যায়। জরাজীর্ণ ঘরে পলিথিন ও পাটের চট দিয়ে কোনোমতে চলছে তাদের বসবাস।

ভুক্তভোগীরা আরো জানান, চলাচলের জন্য নেই উপযুক্ত রাস্তা। ছেলে-মেয়েদের জন্য বিদ্যালয় বা খেলাধুলার ব্যবস্থাও নেই। রয়েছে নিরাপদ পানি ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানার সমস্যা।

দেশীগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল কুদ্দুস, বারুহাস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোক্তার হোসেন, মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম বুলবুল বলেন, আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পের বসতঘর দীর্ঘদিন সংস্কার না করায় সেখানকার ৪৪৫ পরিবারের বাসিন্দাদের সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেজবাউল করিম দৈনিক ইত্তেফাককে বলেন, আশ্রয়ণ ও আবাসন প্রকল্পগুলো পরিদর্শন করে পর্যায়ক্রমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইত্তেফাক/এমআর