মুক্তিযুদ্ধে বয়স ছিল আট বছর, তবু বীরাঙ্গনা হতে আবেদন!

জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা জন্মতারিখ অনুযায়ী মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল ৮ বছর ৩ মাস। তার পরও বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত হতে আবেদন করেছেন জয়পুরহাট সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের উত্তর জয়পুর গ্রামের আছমা বিবি। তিনি সদর উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান। এ খবরে জেলা আওয়ামী লীগসহ এর অঙ্গসংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ৫৫৩৬৪২১২৯৯তে দেখা যায়, আছমা বিবির জন্মতারিখ ১৯৬২ সালের ২০ ডিসেম্বর। সে অনুযায়ী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স ছিল ৮ বছর ৩ মাস ৬ দিন। কিন্তু ‘ভুয়া জন্মসনদ’ তৈরি করে ১২ বছর বয়স বাড়িয়ে জন্মনিবন্ধনে জন্মতারিখ করে নিয়েছেন ১৯৫০ সালের ২০ ডিসেম্বর। সে হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের সময় ২০ বছরের তরুণী থাকায় তিনি পাকিস্তানি সেনাদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন। 

এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রে থাকা জন্মতারিখ সংশোধন করে ‘ভুয়া জন্মসনদে’ দেখানো জন্মতারিখ ১৯৫০ সালের ২০ ডিসেম্বর করার জন্য তিনবার আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন তা বাতিল করে দিয়েছে। জন্মসনদ প্রসঙ্গে দোগাছী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার স্বাক্ষরিত সনদপত্রটি সম্পূর্ণ জাল। বীরাঙ্গনার জন্য আমি কোনো প্রত্যয়নপত্র বা জন্মসনদ দেই নাই।’

এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণসহ বিষয়টি যথাযথ অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে আছমা বিবি নিজেকে বীরাঙ্গনা মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার জন্য আবেদন করার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ঐ সময় জাতীয় পরিচয়পত্রে আমার জন্মতারিখ ভুল লেখা হয়েছে। তাই আমি জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধন করার জন্য কাগজপত্র জমা দিয়েছি এবং বীরাঙ্গনা হিসাবে গেজেটভুক্তির জন্য আবেদন করেছি।’

ইত্তেফাক/জেডএইচ