গোপালগঞ্জে স্ত্রী-ছেলেকে কুপিয়ে গৃহকর্তার আত্মহত্যা

গোপালগঞ্জে স্ত্রী ও ছেলেকে কুপিয়ে জখম করে মনির মোল্লা (৫৫) নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছে। শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের  রঘুনাথপুর চরপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

মনিরের স্ত্রী তানজিলা বেগম (৪৫) ও ছেলে ইমদাদুল মোল্লাকে (২৩) প্রথমে গোপালগঞ্জ  জেনারেল হাসপাতালে ও পরে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে  রবিবার সকালে মনির মোল্লার লাশ গোপালগঞ্জ সদর থানা পুলিশ উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। 

মনির মোল্লার মেয়ে রাফেজা (২৮)  বলেন, ‘শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার বাবা মনির মোল্লা মা তানজিলা বেগমের সঙ্গে চিৎকার চেঁচামেচি করছিলেন। এক পর্যায়ে বাবা মায়ের গলা চেপে ধরে। ওই সময় ভাই ইমদাদুল এসে ছাড়ানোর চেষ্টা করে। তখন ঘরের মেঝেতে থাকা দা  এনে ভাই ইমদাদুলের মাথায় কোপ দেয় বাবা। পরে ওই দা দিয়ে মাকেও কোপ দেয় । আমরা মা ও ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে যাওয়ার সময় বাবা দৌড়ে রান্না ঘরে গিয়ে তরকারি কাটা বটি দিয়ে নিজের গলায় কাটেন। পরে তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বাবাকে মৃত ঘোষণা করেন।’

আরো পড়ুন : ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে উষ্ণ : ওবায়দুল কাদের

মনির মোল্লার ছোট মেয়ে মাফুজা (২৫) বলেন, ‘আমার আব্বা বেশ কয়েক মাস ধরে সন্দেহজনক আচরণ করে আসছে। একা একা বিড়বিড় করতো। আমাদের সাথে ভালভাবে কথা বলতো না।  ৩ মাস ধরে তাকে মানসিক চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ খাওয়ানো হচ্ছে।’

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল ইসলাম জানান, মানসিক ভারসাম্যহীন মনির মোল্লা তার স্ত্রী তানজিলা বেগম ও ছেলে ইমদাদুল মোল্লাকে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্মক জখম করেছে। পরে নিজের গলায় ধারালো বটি চালিয়ে আত্মহত্যা করেছে। 


ইত্তেফাক/ইউবি