বান্দরবান পার্বত্য জেলার লামা উপজেলা পরিষদের দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে লামা কোর্ট বিল্ডিং-এর জরাজীর্ণ ভবনে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার জরাজীর্ণ দু’টি কক্ষে দাপ্তরিক কার্যক্রম করছেন। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানদের জন্য নেই কোনো কক্ষ। অফিসের মূল্যবান নথিপত্র সংরক্ষণের জন্য নেই কোনো ব্যবস্থা। প্রতিবছর বর্ষায় জরাজীর্ণ ভবনগুলো পানির নিচে তলিয়ে মূল্যবান নথিপত্র নষ্ট হয়।
সাবেক মহকুমা লামাকে জেলায় উন্নীত করা হলেও বিশেষ কারণে স্থগিত করা হয়। কিছু কিছু বিভাগ কর্তৃক লামায় জেলার অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সে সকল অবকাঠামোতে উপজেলা পর্যায়ের বিভাগীয় কার্যক্রম চালু করা হয়। কিন্তু উপজেলা পরিষদের ও লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের জন্য নির্মাণ করা হয়নি প্রশাসনিক ভবন।
জানা যায়, ১৯৮১ সালের ২ এপ্রিল লামা কোর্ট বিল্ডিং উদ্বোধন করেন তত্কালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার। বর্তমানে এ কোর্ট বিল্ডিং-এর অবস্থাও খুবই জরাজীর্ণ। তথাপি কোর্ট বিল্ডিং-এর কয়েকটি জরাজীর্ণ কক্ষে বর্তমানে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এছাড়া ভূমি অফিস, লামা তথ্য অফিস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন অধিদপ্তরের কার্যক্রমও কোর্ট বিল্ডিং-এর জরাজীর্ণ ভবনে চলছে।
লামা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান সারাবান তাহুরা জানান, উপজেলা পরিষদের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনো অফিস কক্ষ না পাওয়ায় জনগণকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছি। লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইসমাইল জানান, গত আট বছর পূর্বে মহামান্য রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে লামা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ করার জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে পত্র দেওয়া হলেও কাজ হয়নি। বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার নূর-এ-জান্নাত রুমি জানিয়েছেন, উপজেলা পরিষদের নিজস্ব প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম না থাকায় প্রশাসনিক ও বিভাগীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় লামা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণের জন্য সয়েল টেস্ট করতে প্রকল্প পরিচালক এলজিইডিকে পত্র দিয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী নাজিমউদ্দিন জানান, লামা উপজেলা পরিষদের প্রশাসনিক ভবন ও হলরুম নির্মাণ করার জন্য ডিপিপিভুক্ত করা হয়েছে। উপজেলা কমপ্লেক্স সম্প্রসারণ প্রকল্প দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। উপজেলা চেয়ারম্যান থোয়াইনু অং চৌধুরী জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনিক ভবন নির্মাণের জন্য এলজিইডি মাটি পরীক্ষা করেছে। কবে নাগাদ বাস্তবায়ন হবে তা জানি না।