কমলগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বোরো চাষাবাদের জন্য পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ

 ‘পানির অভাবে কেওলার হাওরে বোরো চাষাবাদ অনিশ্চিত’ শিরোনামে গত মঙ্গলবার ইত্তেফাকে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিন পরিদর্শনের পর পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। লাঘাটা নদীর রূপশপুর এলাকায় ক্রসবাঁধ দিয়ে পতিত অনাবাদি বোরো জমি চাষাবাদের আওতায় আনার জন্য এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

বুধবার দুপুরে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলার উপ-পরিচালক মো. শাহজাহান ও অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) মো. শাসমুদ্দীন আহমদ সরেজমিন কেওলার হাওরের রূপশপুর এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে অনাবাদি পতিত বোরো জমি চাষাবাদের জন্য সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ক্রসবাঁধ দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (পিপি) মো. শাসমুদ্দীন আহমদ সরেজমিন পরিদর্শনের সত্যতা নিশ্চিত করে ইত্তেফাককে বলেন, আসলে কেওলার হাওরের রুপশপুর এলাকায় লাঘাটা নদীতে প্রতি বছর ক্রসবাঁধ দিয়ে পানি সুবিধা নিয়ে কৃষকরা বোরো আবাদ করেন। এ বছর নতুন কৃষি কর্মকর্তা আসায় এবং পানি সংরক্ষণ বিষয়ে তিনি অবগত না থাকায় বিলম্ব হয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে দ্রুত ক্রসবাঁধের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক বলেন, দু’-এক দিনের মধ্যেই কৃষকদের সুবিধার্থে পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, এখানে নতুন আসার কারণে এবং এ বিষয়ে কেউ আমাকে অবহিত না করায় সেটি বুঝে ওঠা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, উপজেলার পতনঊষার, মুন্সীবাজার ও শমশেরনগর ইউনিয়নের কিছু অংশ নিয়ে কেওলার হাওরসহ বিল ও বোরো চাষাবাদকৃত প্রায় ১৫০ হেক্টর বিস্তীর্ণ এলাকায় বোরো জমি অনাবাদি রয়েছে। ফি বছর হাওরের মাঝ দিয়ে প্রবাহিত লাঘাটা নদীর রুপশপুর এলাকায় ক্রসবাঁধ দিয়ে পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে চাষাবাদ করা হতো। এ বছর পানি সংরক্ষণের উদ্যোগ না নেওয়ায় কৃষকদের পতিত বোরো জমি চাষাবাদের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।