আন্তর্জাতিক পাসপোর্ট সূচকে তিন ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ভিসা ছাড়া শুধু পাসপোর্ট দিয়ে বিদেশ ভ্রমণের সুবিধার ভিত্তিতে বিশ্বব্যাপী এই সূচক তৈরি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নাগরিকত্ব ও পরিকল্পনা বিষয়ক ফার্ম হেনলি পাসপোর্ট সূচকের তথ্য অনুযায়ী- এ জরিপে ১০০তম অবস্থান থেকে তিন ধাপ এগিয়ে বিশ্বে ৯৭ নম্বর র্যাংকিংয়ে এসে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশের পাসপোর্ট। গত বুধবার প্রকাশিত পাসপোর্ট সূচকে দেখা গেছে- বিনা ভিসায় বিশ্বের ৪১টি দেশে ভ্রমণের সুবিধা নিয়ে লেবানন, লিবিয়া এবং দক্ষিণ সুদানের সঙ্গে যৌথভাবে ৯৭তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।
সূচকের তথ্য মতে, বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে ভিসা ছাড়া শুধু পাসপোর্ট দিয়ে ৩৩টি দেশ ভ্রমণের সুবিধা নিয়ে ১০২তম অবস্থানে আছে পাকিস্তান। তবে ভারত বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। ৬১টি দেশে ভ্রমণ সুবিধা নিয়ে বৈশ্বিক পাসপোর্ট সূচকে ৭৯তম অবস্থান দেশটির। শুধু পাসপোর্ট দিয়ে ৪৩ দেশে ভ্রমণ সুবিধা নিয়ে শ্রীলঙ্কা এশিয়ার ৯৫তম র্যাংকিংয়ে। তাছাড়া নেপাল রয়েছে ৯৮তম স্থানে। তাদের ভিসা ছাড়া পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ সুবিধা আছে ৪০টি দেশে। মিয়ানমার ৯০তম অবস্থানে। দেশটির ভ্রমণের অধিকার আছে ৪৮ রাষ্ট্রে। এদিকে, এ সূচকে মাত্র দুই বছরের মধ্যে ১৬ ধাপ এগিয়ে গেছে চীন। পাসপোর্ট র্যাংকিংয়ে ২০১৭ সালে দেশটি ছিল ৮৫তম অবস্থানে। এবার দখল করে নিয়েছে ৬৯তম অবস্থান। সূচক অনুযায়ী দেশটি এশিয়ার মধ্যে শীর্ষে আছে।
সূচকের ভিত্তিতে, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী জাপানের পাসপোর্ট দিয়ে ১৯০টি দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যায়। সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ কোরিয়ার পাসপোর্ট দিয়ে ১৮৯টি দেশে ভ্রমণ করা যায়। সবচেয়ে শক্তিশালী ১০ পাসপোর্টের তালিকায় এই তিনটি দেশ ছাড়াও আছে ফ্রান্স ও জার্মানি, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইতালি, সুইডেন, লুক্সেমবার্গ ও স্পেন। ফ্রান্স ও জার্মানি পাসপোর্ট দিয়ে ভ্রমণ করা যায় ১৮৮ দেশ। বিনা ভিসায় ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ইতালি ও সুইডেন ১৮৭ এবং লুক্সেমবার্গ ও স্পেন ১৮৬, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ১৮৫টি দেশ ভ্রমণ করতে পারে। আর সাত নম্বর কানাডা। সবচেয়ে কম শক্তিশালী পাসপোর্ট হলো- আফগানিস্তান ও ইরাক, সোমালিয়া ও সিরিয়া, পাকিস্তান, ইয়েমেন এবং ইরিত্রিয়ার। এরমধ্যে আফগানিস্তান ও ইরাকের পাসপোর্ট দিয়ে ৩০টি দেশ, সোমালিয়া ও সিরিয়ার ৩২, পাকিস্তানের ৩৩, ইয়েমেনের ৩৭, ইরিত্রিয়ার পাসপোর্টে ৩৭ দেশে ভিসা ছাড়া ভ্রমণের অধিকার আছে।
বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা যেসব দেশে ভিসামুক্ত যাতায়াত করতে পারেন সেগুলো হলো-এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, ভুটান, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ ফিজি, ক্যারিবীয় দেশ হাইতি (৯০ দিন), জ্যামাইকা, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাকো, বারবাডোজ (১৮০ দিন), ডমিনিকা, বাহামা, গ্রানাডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস (৯০ দিন), সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, আফ্রিকার গাম্বিয়া, লেসোথো, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ মাইক্রোনেশিয়া ও ভানুয়াতু। এছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা অন-অ্যারাইভাল সুবিধা দিচ্ছে এশিয়ার মালদ্বীপ, নেপাল, কম্বোডিয়া (৩০ দিন), টিমোর-লেস্ট, দক্ষিণ আমেরিকার বলিভিয়া (৯০ দিন/ই-ভিসা), আফ্রিকার মরিটানিয়া, মোজাম্বিক, সোমালিয়া (৩০ দিন), উগান্ডা (ই-ভিসা), রুয়ান্ডা (৩০ দিন/ই-ভিসা), মাদাগাস্কার, বেনিন, গিনিয়া-বিসাউ (ই-ভিসা), কেপ ভার্দে, কমোরোস, টোগো, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশ সামোয়া ও টুভালু। শুধু তাই নয়, বাংলাদেশের পাসপোর্টধারীদের জন্য ই-ভিসা (অনলাইন ভিসা) সুবিধা রয়েছে মালয়েশিয়া (৩০ দিন), কাতার, মিয়ানমার (২৮ দিন), আফ্রিকার চার দেশ কেনিয়া (৯০ দিন), ইথিওপিয়া, জিবুতি ও গ্যাবোনে। সেইসঙ্গে পর্যটক নিবন্ধন সুবিধা দেয় পূর্ব আফ্রিকার সিশেলেস। এছাড়া বাংলাদেশের জন্য ইলেক্ট্রনিক ট্রাভেল অথরিটি (ইটিএ) ব্যবস্থা রেখেছে শ্রীলঙ্কা।