ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের দাবি জানিয়েছে ছাত্রদল। সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার বলেছেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিবেশ নিয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু দেখি না। ডাকসু নির্বাচনের আগে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। তা না হলে সকলের অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’
ডাকসু ও হল সংসদের গঠনতন্ত্র সংশোধন করে যুগোপযোগী করার বিষয়ে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভা শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। এছাড়া মতবিনিময় সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ছাত্র সংগঠনের প্রতিনিধিরা তাদের দাবিসমূহ তুলে ধরেন।
ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস বলেন, আমরা চাই সব সংগঠন নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। ক্যাম্পাসে সহাবস্থানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ক্যাম্পাসে সহাবস্থান আছে। যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী তারা ক্যাম্পাসে আসছেন, ক্লাস করছেন, আড্ডা দিচ্ছেন। সাধারণ শিক্ষার্থীরা যদি তাদের (ছাত্রদলের) মতাদর্শ গ্রহণ করে নেয় তাহলে তারা ক্যাম্পাসে আসতে পারবে, কেউ তো তাদের বাধা দিচ্ছে না।’
বৈঠক সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগ ডাকসুর সেক্রেটারিয়েটের সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী প্রতিনিধি রাখা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যাকেন্দ্রিক আলাদা সম্পাদকের পদ সৃষ্টির দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে নির্বাচনের প্রচারণায় ক্যাম্পাসে সকল সংগঠনের নেতাকর্মীরা যেন সমান সুযোগ পায় সে বিষয়ে প্রস্তাবনা রাখা হয়। বাম সংগঠনের প্রতিনিধিরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এমফিল করা (নিয়মিত) শিক্ষার্থীদের সদস্য রাখা, দীর্ঘদিন পরে নির্বাচন হচ্ছে বিধায় একটি নির্দিষ্ট সেশন পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দান, সভাপতির ক্ষমতা হ্রাস এবং সেক্রেটারিয়েট বডির সদস্যদের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ নানা প্রস্তাবনা পেশ করে।
মতবিনিময় সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধন কমিটির আহ্বায়ক ও আইন বিভাগের অধ্যাপক মিজানুর রহমান বলেন, সময় স্বল্পতার কারণে সকল সংগঠনের প্রতিনিধিদের কাছ থেকে প্রস্তাবনা রাখা সম্ভব হয়নি। তবে আগামী সোমবারের মধ্যে তাদেরকে লিখিত প্রস্তাবনা দিতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, ডাকসু নির্বাচনের অংশ হিসেবে সংবিধান সংশোধন কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সকল সংগঠনের সঙ্গে কথা বলে প্রস্তাবনা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরপর সিন্ডিকেট বৈঠকে বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।
বৈঠক শুরুর পূর্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আগামী ৩১ মার্চের মধ্যেই ডাকসু নির্বাচন দেওয়ার প্রয়াস আমরা নিয়েছি। আমাদের প্রত্যাশিত সময়ের মধ্যে যাতে কাজ শেষ করতে পারি সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করছি।’
অধ্যাপক মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক রহমত উল্লাহ, অধ্যাপক সুপ্রিয়া সাহা ও অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা।
ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতৃবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের ঢাবি সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন, ছাত্রদলের ঢাবি সভাপতি আল মেহেদী তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সিদ্দিকী, ছাত্র ইউনিয়নের ঢাবি সভাপতি ফয়েজ উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক রাজিব দাস, জাসদ ছাত্রলীগের ঢাবি সভাপতি চন্দ্র নাথ পাল ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রাহাত, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি সালমান সিদ্দিকী ও সাধারণ সম্পাদক তমা বর্মণ, ছাত্র ফেডারেশনের ঢাবি সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজীরসহ ১৩টি ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।