আন্দোলনে ব্যর্থরা ভোটে বিজয়ী হতে পারে না

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলনে যারা ব্যর্থ হয়, তারা কখনোই নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারে না, এটাই বাস্তবতা। তাছাড়া নির্বাচনের নামে যারা (বিএনপি) নমিনেশন নিয়ে ট্রেড (বাণিজ্য) করেছে, অকশন (নিলাম) করেছে, তারা কী করে আশা করে যে জয়ী হবে? যাদের নীতি ঘুষ-দুর্নীতি, লুটপাট, এতিমের টাকা আত্মসাত্, অগ্নিসন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করা- তারা জেতার আশা করেইবা কীভাবে? বাংলাদেশের মানুষ কখনো এটা মেনে নেয়নি, মেনে নেবেও না। তাই দেশের জনগণ সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে, ভোট দেয়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর খামারবাড়িস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নির্বাচন নিয়ে সমালোচনার জবাবে এবারের চেয়ে ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আরও বেশি ভোট পড়ার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘২০০৮ এর নির্বাচনে জনগণ আমাদের ম্যান্ডেট দিয়েছিল। প্রায় ৮৬ ভাগ ভোট পড়েছিল। কোনো কোনো কেন্দ্রে প্রায় ৯০ ভাগের উপরে ভোট পড়েছিল।’ সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অনেকেই লিখছে, অনেকেই অনেক কথা বলছে। কিন্তু তারা যদি এই তুলনাটা দেখেন, তাহলে দেখবেন যে ২০০৮ এর নির্বাচনে ভোট পড়েছিল অনেক বেশি। জনগণ আওয়ামী লীগকে ভোট দেয়। নৌকা মার্কায় ভোট পেয়ে আমরা আবার দেশের মানুষের সেবা করার সুযোগ পাচ্ছি। এজন্য প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে তারা (বিএনপি) নমিনেশন দিলো কাকে? যেখানে উচ্চ আদালত থেকে একটি দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সেই জামায়াতে ইসলামীর ২৫ জনই নমিনেশন পেয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ এখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী। তারা যুদ্ধাপরাধীদের কখনো ভোট দেবে না। নির্বাচন বানচাল ও সরকার উত্খাত আন্দোলনের নামে তারা সন্ত্রাস, নাশকতা ও মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। অগ্নিসন্ত্রাস আর এত অপকর্মের পরও তারা কীভাবে মানুষের ভোট পাবে? তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, বিএনপি দেশের ভেতরে কোন নেতাকে তাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন বানাতে পারলো না! তারা বানালো একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে। নির্বাচনে ব্যাপক ভরাডুবির জন্য বিএনপির মনোনয়ন বাণিজ্যও একটি কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা এই দেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। ২৯টা বছর এই দেশের মানুষের অনেক ভোগান্তি হয়েছে। একমাত্র আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে আমরা জাতির পিতার আদর্শ নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করি। অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন আমাদের মূল লক্ষ্য। মানুষের জীবনে শান্তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হবে, সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রণয়ন করেছি। তিনি  বলেন, আগামী ৫ বছর আমাদের জন্য কঠিন পরীক্ষা। যে উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছি; এটা আমাদের অব্যাহত রেখে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো। জনগণ আমাদের উপর আস্থা-বিশ্বাস রেখেছে; এই বিশ্বাসের মর্যাদা দিয়ে বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তুলবো-এই বিশ্বাস আমাদের আছে।

দলের সকল নেতাকর্মীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদেরকে জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে চলতে হবে এবং দেশের মানুষ যদি ভাল থাকে, দেশের মানুষ যদি সুন্দর জীবন পায়-এর থেকে বড় সার্থকতা একজন রাজনীতিবিদের জীবনে আর কিছু হতে পারে না। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশেকে আর কেউ পিছনে টেনে নিতে পারবে না। বাংলাদেশের মাটিতে যেন আর কখনো ওই যুদ্ধাপরাধী, খুনি, সন্ত্রাসী, অগ্নিসন্ত্রাসীরা ফিরে আসতে না পারে, দেশের মানুষকে সেইভাবে সজাগ থাকতে হবে।  আমাদের কেউ দাবায়ে রাখতে পারে নাই, ভবিষ্যতেও পারবে না। জাতির পিতার প্রতি এটাই আমাদের ওয়াদা।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আফম বাহাউদ্দিন নাছিম প্রমুখ। সমাবেশ পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ।