আন্দোলনেও বিএনপিকে প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ :কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যারা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে শ্রদ্ধা করে না, সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের মাধ্যমে দেশের মানুষ তাদের চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। আগামী দিনে আন্দোলন করলেও জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, একজন রাজনীতিকের জীবনে মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় সম্পদ আর কিছু নেই। আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকেও আমরা মানুষকে ভালোবাসার শিক্ষা পেয়েছি। কাজেই আজ থেকে আমরা এই শপথই নেব, বঙ্গবন্ধুর সততা ও সাহসের আদর্শকে আমরা ধারণ করব, আমরা মাটির কাছে থাকব, মানুষের কাছে থাকব এবং জনস্বার্থে কাজ করে যাব।

এদিকে গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ওবায়দুল কাদের সড়কে হেলমেট ছাড়া মোটর সাইকেলের যাত্রী হওয়ার ঘটনায় একজন প্রতিমন্ত্রী দুঃখ প্রকাশ করেছেন জানিয়ে বলেন, ‘ওই প্রতিমন্ত্রী আমার কাছে ভুল স্বীকার করেছেন। এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলে ওই প্রতিমন্ত্রী আমাকে কথা দিয়েছেন।’ সড়ক পরিবহন মন্ত্রী বলেন, ‘সড়ক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো আমার প্রধান ও অগ্রাধিকারমূলক কাজ। দুইটি বিভাগেই শৃঙ্খলা ফেরাতে হবে, এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ। এটি শুরুতেই করতে হবে, প্রথম রাতে বিড়াল মারার মতো।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ডিটিসিকে আমি ফাংশনাল করতে পারিনি। এটি করতে না পারলে এই শহর পছন্দ হবে না। ফুটপাত পরিচ্ছন্ন ও যানজট নিরসন করতে হবে। এই কাজের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দফতরও কাজ করছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সারাদেশে লাইসেন্স ছাড়া যেসব যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করে, তাদের নিয়ন্ত্রণে আনা হবে। কাজটি ডিফিকাল্ট, তবু সড়কে শৃঙ্খলা এনেই ছাড়ব।’  তিনি জানান, আগামী জুনের আগেই ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চার লেন সড়কের কাজ শুরু হবে। তিনি বলেন, সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়নে চলমান মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেট্রোরেল, কর্ণফুলি টানেল ও পদ্মাসেতুর কাজ এগিয়ে চলছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজও দ্রুত এগুচ্ছে। এই কাজগুলো দ্রুত শেষ করা হবে। পরবর্তী ধাপে গাজীপুর থেকে এলেঙ্গা, এলেঙ্গা থেকে রংপুর এবং রংপুর থেকে বুড়িমারি ও পঞ্চগড়ের মধ্যে ফোর লেনের কাজ শুরু হবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘মন্ত্রীদের পিএস, এপিএস নিয়োগ প্রক্রিয়াটি ভালো হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হয়েছে। আমার এখানেও নতুন একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে কাজ ভালো না হলে পিএমকে জানাবো বলে তাদের বলেছি।’ এ সময় বাসে মন্ত্রীদের যাতায়াতের বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা তিনটি বাসে ৪৬ জন সাভার ও টুঙ্গিপাড়ায় গিয়েছি। এতে ঝামেলা ও জনদুর্ভোগ কমেছে। এই প্রক্রিয়ায় বাসে মন্ত্রীদের সচিবালয়ে আনা যায় কি না তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ভাবছেন।’

অপরদিকে সাবেক তথ্যমন্ত্রী ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু গতকাল সচিবালয়ে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাক্ষাত্ করেন। এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, জাসদ ১৪ দলীয় জোটভুক্ত একটি দল। দলটির শীর্ষ নেতা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে দেখা করতেই পারেন। তবে আপনারা যা ধারণা করেছেন সে বিষয়ে নয়, অন্য দুই-তিনটি বিষয়ে আমাদের মধ্যে কথা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমার এই মেয়াদে ‘নাম্বার ওয়ান’ অগ্রাধিকার কাজ হচ্ছে সড়ক ও পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো। এটা করতেই হবে। কাজটা কঠিন কিন্তু অসম্ভব না। গতকাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, যত অবকাঠামোই হোক না কেন সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে না পারলে কোনো কাজই সফল হবে না। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতেই হবে। সেজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশনা দিয়েছি। এই কাজটি প্রথমে করতে হবে। পরে আবার নির্বাচনের বিষয় আসবে, রাজনৈতিক বিভিন্ন চাপ আসবে। এটা প্রথম রাতে বিড়াল মারার মতোই, এই বিষয়গুলো নজরদারি করতে হবে। সেটাই আমি বেছে নিয়েছি। তিনি বলেন, কিছু সমস্যা তো আছেই। এখানে শুধু আমি একা না, আরো অনেক মন্ত্রী আছেন, অনেক বিভাগ আছে। সবার সহমত থাকতে হবে। আমরা সবাইকে নিয়েই কাজটা করতে চাই।