ইয়েমেনে সামরিক ঘাঁটিতে হুতিদের ড্রোন হামলা

ইয়েমেনের লাহাজ প্রদেশে বৃহস্পতিবার একটি সামরিক ঘাঁটিতে কুচকাওয়াজের সময় ড্রোন হামলা চালায় ইরান সমর্থিত শিয়াপন্থি হুতি বিদ্রোহীরা। এতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কমপক্ষে ছয়জন নিহত এবং কয়েক ডজন লোক আহত হওয়ার কথা জানিয়েছে সৌদি ও হুতি নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমগুলো। আহতদের মধ্যে ইয়েমেনের সেনাপ্রধানও রয়েছে বলে একটি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। তবে তাত্ক্ষণিকভাবে হতাহতের খবর নিশ্চিত করা যায়নি।

২০১৭ সালের নভেম্বরে দেশটিতে অভিযান পরিচালনা করা সৌদি আরবের ওপর ড্রোন ও মিসাইল হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেয় হুতি বিদ্রোহীরা। একই সঙ্গে সৌদি আরবের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ওপরও হামলা স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হুতিদের তরফ থেকে তখন এ ঘোষণা দেওয়া হলেও সমপ্রতি দেশটিতে কীভাবে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে হওয়া চুক্তি থেকে সরে এসে সামরিক কুচকাওয়াজে হামলা চালালো হুতি বিদ্রোহীরা।

২০১৫ সালে ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে উচ্ছেদ করে রাজধানী দখলে নেয় ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সৌদি আরবে নির্বাসনে যেতে বাধ্য হন হাদি। হুতিদের ক্ষমতা দখলের পর থেকেই হাদির অনুগত সেনাবাহিনীর একাংশ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে। ২০১৫ সালের মার্চে হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে মিত্রদের নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ‘অপারেশন ডিসাইসিভ স্টর্ম’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত। সৌদি জোটের সামরিক অভিযানের পর এখন পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ ১০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।