ফলন ভালো হওয়া সত্ত্বেও জেলার সাটুরিয়া উপজেলায় বেগুনের ভালো দাম না পেয়ে কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় সাটুরিয়া উপজেলায় বেগুনের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান কৃষকরা। নিজ জেলার চাহিদা পূরণ করে এ উপজেলার বেগুন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। অথচ ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না কৃষকরা। তবে তাদের কাছ থেকে সস্তায় বেগুন কিনে রাজধানীতে বিক্রি করে পাইকারি ব্যবসায়ীরা ঠিকই লাভ করে নিচ্ছে ।
অথচ অধিক লাভজনক হওয়ার কারণেই বেশ কয়েক বছর ধরে বেগুন চাষে ঝুঁকেছেন এ উপজেলার কৃষকেরা। বেগুন চাষ করে একদিকে কৃষক যেমন আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন, অন্যদিকে দেশের সবজির চাহিদা পূরণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছেন তারা। সাধারণভাবে প্রতি বিঘা (৩০ শতাংশ) জমিতে বেগুন চাষে সব মিলিয়ে খরচ হয় ৩০ হাজার টাকার মত। আর বিক্রি হয় ৭০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকায়। কিন্তু এ বছর দাম পড়ে যাওয়ায় প্রতি বিঘা জমিতে উত্পাদিত বেগুন বিক্রি করে ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকার বেশি দাম পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানালেন কৃষকরা।
সরেজমিন উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের চর তিল্লী বাজার ভাই ভাই বেগুনের হাট ঘুরে জানা গেছে, আশপাশের পাকিস্তান হাট, তিল্লী, পশ্চিম চর তিল্লী ও পূর্ব চর তিল্লী এলাকার কৃষকেরা এখানে পাইকারদের কাছে বেগুন বিক্রি করে থাকে। এই হাটে ছোট-বড় মিলে ২০ জন পাইকার রয়েছে যারা কৃষকদের কাছ থেকে বেগুন কিনে রাজধানীর বড় বড় সবজি বাজারে বিক্রি করে থাকে। এ পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ছয় থেকে আট টাকায়। আবার প্রতি পাইছা (কৃষকদের বিশেষ ঝুড়ি) বেগুন ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
কথা হয় চর তিল্লী গ্রামের বেগুন চাষি আসলাম মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, আমার তিন বিঘা জমি আছে যেখানে আমি এক বিঘায় বেগুন এবং দুই বিঘায় ভুট্টা চাষ করেছি। বাজারের যে অবস্থা তাতে আমার চালান উঠবে কিনা কে জানে।
সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লী ইউনিয়নের চর তিল্লী আড়ত্ সভাপতি সুমন বান্দুও জানালেন, এবারে বেগুনের ফলন ভালো হয়েছে। গত বছর এই সময় কৃষকের কাছ থেকে পাইকাররা ৪শ থেকে ৫শ টাকা মণ দরে বেগুন কিনেছে। কিন্তু এবার পাইকাররা কৃষকের হাতে মণ প্রতি দাম দিচ্ছে মাত্র ৩শ থেকে সাড়ে তিনশত টাকা। পাইকারদের লাভ ঠিকই থাকছে, আর কৃষক তার চালান তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন, এ বছর জেলায় প্রায় ২০ হেক্টর জমিতে বেগুন চাষ হয়েছে। এর মধ্যে সাটুরিয়া ও সিংগাইর উপজেলায় বেগুন চাষ হয়েছে বেশি। কৃষকদের ন্যায্য দাম না পাওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাহিদার চেয়ে উত্পাদন বেশি হওয়াতে কৃষকরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাই কৃষকদের প্রতি আমাদের পরামর্শ যখন যে ফসলের উত্পাদনের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকবে সেই ফসল চাষাবাদ করা।