মসজিদে বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রধানমন্ত্রীর বরাবর ৬ দাবি

ফতুল্লার পশ্চিম তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় কর্মসংস্থান, ভাতা ও আর্থিক সহযোগিতাসহ ৬ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে হতাহতের পরিবারের সদস্যরা। 

সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিনের হাতে ওই স্মারকলিপি দেন তারা। 

পরে সংক্ষিপ্ত ব্রিফিংয়ে হতাহতের পরিবারের পক্ষে বিস্ফোরণে নিহত মসজিদের ইমাম আব্দুল মালেকের ছেলে নাইমুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের স্বজনহারা পরিবার এখনও চোখের জল ফেলে যাচ্ছি। বর্তমানে আমাদের স্বজনহারা পরিবারের আহত ও নিহতদের অনেকেই সামর্থ্যহীন। কেউ কেউ একমাত্র উপার্জনক্ষম কর্তাকে হারিয়েছে। ফলে বর্তমানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যরা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের আকুল আবেদন। স্বজনহারা পরিবারের দাবিগুলো হলো, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা, স্বামী ও সন্তানহারা মায়েদেরকে বিধবা ভাতার আওতায় আনা, দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মসজিদের পূর্ণ সংস্কার করে দ্রুত নামাজের ব্যবস্থা করা, মসজিদ সংলগ্ন রাস্তা মেরামত করা ও সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। ’

ডিসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সহায়তা জন্য ইতোমধ্যে আমি প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছি। শেষ যে দুইজন মারা গেছেন ওই তথ্যটা আমরা দিতে পারিনি। আজকে ওই দুইজনের তথ্যও দিব। আমরা বিশ্বাস যে, প্রধানমন্ত্রী উদার মন নিয়ে এগিয়ে আসবেন।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘খুব দ্রুত মসজিদটি পরিষ্কার করে নামাজের জন্য খুলে দেওয়া হবে। অন্যান্য বিষয়গুলো আমরা দেখবো। নারায়ণগঞ্জের বড় ব্যবসায়ীরা তাদের জন্য এগিয়ে আসার আহবান জানাচ্ছি।’ 

প্রসঙ্গত ৪ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টায় সদর উপজেলার পশ্চিম তল্লা এলাকায় বাইতুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, সাংবাদিক ও শিশু সহ ৩৯ জন দগ্ধ হয়। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শেখ হাসিনা প্লাস্টিক সার্জারি ও বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে এখনও পর্যন্ত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।  এছাড়া আইসিইউতে আশঙ্কাজনক রয়েছেন ৩ জন।

ইত্তেফাক/জেডএইচ