ঘেরে চাষ করা হয়েছে মাছ। আর ঘেরের পতিত আইলে নোনা মাটিতে অসময়ে তরমুজ চাষ করে ভাগ্য বদল করেছে কৃষক। বাঁশ ও নাইনেল সূতা দিয়ে তৈরি মাচাতে বাতাশে দুলছে রসালো বড় বড় তরমুজ।
খুলনার বটিয়াঘাটায় অসময়ে বর্ষাকালীন তরমুজের এমন বাম্পার ফলন হয়েছে। ওজনে যাতে ছিঁড়ে পড়তে না পারে সে জন্য প্রতিটি তরমুজ নেটের ব্যাগ দিয়ে বেঁধে দেয়া হয়েছে। প্রতিটি তরমুজ ৫ থেকে ৮কেজি ওজন। খুলনার বাজারে প্রতি কেজি পাইকারি বিক্রি হচ্ছে ৫০- ৬০টাকা দরে। খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৮০টাকায়।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট খুলনা কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প জানিয়েছে, গ্রীষ্মকালীন তরমুজের পাশাপাশি বর্ষাকালীন তরমুজ চাষের প্রযুক্তি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গত বছর খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলায় তিন জন কৃষক প্রথম পরীক্ষা মূলকভাবে তরমুজ চাষ করে সফলতা অর্জন করেন। এবছর কৃষকের সংখ্যা আরও বেড়েছে। গত ১ জুন বীজ পবন করে মাত্র ৩মাসে এর সুফল পেয়েছে কৃষকরা। এ বছর ১৫ জন কৃষক ১৮ হেক্টর জমিতে বর্ষাকালীন তরমুজের চাষ করেছেন। হাইব্রিড নাম্বার ওয়ান ও টপসুইট নামের দুটি জাত চাষ করা হয়েছে।
বসুরাবাদ গ্রামের শিক্ষার্থী অনিক গাইন ও সৈকত বিশ্বাস বলেন, আমরা প্রথমবার চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। ভালো দামে বিক্রি করেছি। বটিয়াঘাটা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ কাজে লাগিয়ে চাষ করা হয়েছে। ফলে বাম্পার ফলন পাওয়া গেছে। তাদের খরচ হয়েছে ৩০হাজার টাকা করে ৬০ হাজার। বিক্রি হয়েছে প্রায় ২লাখ করে ৪লাখ টাকা।
মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প (এসআরডিআই অঙ্গ)-এর পরিচালক শচীন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, ঘেরের পাড়ে এই তরমুজ চাষ করায় বর্ষাকালে সেচের প্রয়োজন হয় না। পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি পাওয়া যায়। ফলে কৃষকের সমস্যা হয় না। তরমুজ চাষ হতে পারে কৃষকের ভাগ্য উন্নয়নের চাবি কাঠি। ঘেরের পাড়ে আইলে তরমুজ চাষ সম্প্রসারিত করা গেলে কৃষিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।
ইত্তেফাক/এমআর