বিএনপির পল্টন কার্যালয়ের সামনে সংঘর্ষের ঘটনা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল উল্লেখ করে বিএনপির বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নিতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে দাবি জানিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এই দাবি জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও আওয়ামী লীগের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কো-চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম। বিএনপিসহ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা গতকাল সিইসির সঙ্গে দেখা করে আসার ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে যায় আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দল।
ভোট পেছানোর ‘ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সংঘাত ঘটানো হয়েছে বলে মনে করছে দলটি। বৈঠক থেকে বেরিয়ে এইচ টি ইমাম সাংবাদিকদের বলেন, বিএনপির কার্যালয়ের সামনে পুলিশের উপর হামলায় নির্বাচনী আচরণবিধি লংঘন হয়েছে। এই অপরাধের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। এখানে এসে শান্তির কথা, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির কথা বলে; আর ২০১৩ সালের মতো, সন্ত্রাসের দিকে ফিরে যাব? এগুলো কীসের আলামত? আমরা ইসিকে বলেছি, নয়া পল্টনে সংঘটিত সন্ত্রাসী ঘটনা আচরণবিধির সম্পূর্ণ পরিপন্থি।
নয়া পল্টনে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার চিত্র তুলে ধরে এইচ টি ইমাম বলেন, আচরণ বিধির ১৭ ও ১৮ ধারা অনুযায়ী তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বিএনপির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। নির্বাচনী বিধি লঙ্ঘন করলে ৬ মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা এবং সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা ইসির রয়েছে। রাজনৈতিক দল আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে।
এইচ টি ইমামের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. মশিউর রহমান, রশিদুল আলম, দীপু মনি, ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, বিপ্লব বড়ুয়া, দেলোয়ার হোসেন, কাজী ইমাম, সেলিম মাহমুদ, মারুফা আক্তার পপি, মোস্তাফিজুর রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান বাবলা। সিইসি কে এম নূরুল হুদার নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার, মোঃ রফিকুল ইসলাম, কবিতা খানম ও ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ।