ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতাদের মনোনয়ন নিয়ে জটিলতা

আঁটঘাট বেঁধেই আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেমেছে বিএনপি। দলের হাইকমান্ড থেকে মঙ্গলবার রাতে নেতা-কর্মীদের মাঠে ‘ভোটের আন্দোলনে’ ঝাঁপিয়ে পড়ার কিছু নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছে। ভোট কেন্দ্র পাহারা, কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন, জালভোট প্রতিহত করা, ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত কেন্দ্র ঘিরে রাখাসহ বিভিন্ন নির্দেশ তৃণমূলকে দেওয়া হয়েছে। দলের দায়িত্বশীলরা ইশতেহার প্রণয়ন, অঙ্গীকারনামা তৈরি, কৌশল নির্ধারণ নিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে বিএনপি তাদের দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের সঙ্গে এখন আসন ভাগাভাগির ফায়সালায় ব্যস্ত। সব দলকে যতটা সম্ভব খুশি রেখে যোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে আসন বন্টন করতে চাচ্ছেন বিএনপি নেতারা। ইতোমধ্যে দুই জোটের প্রায় সকল দলই তালিকা দিয়েছে বিএনপির সমন্বয়কদের কাছে। গতকালও দলের গুলশান অফিসে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন নেতারা।

বিএনপির একজন অন্যতম দায়িত্বশীল নেতা জানান, ২০ দলের সাথে আসন বন্টন নিয়ে সমস্যা হবে না। কারণ তাদের বিষয়ে বেগম খালেদা জিয়া জেলে যাওয়ার আগেই ফায়সালা দিয়ে গেছেন। ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগে যে মানদণ্ডে আসন দেওয়া হয়েছিল সেটাই এবারো অনুসরণ করা হবে। তবে একটু উনিশ-বিশ হতে পারে। কিন্ত জটিলতা দেখা দিয়েছে আমাদের সাথে আসা নতুন জোট— জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে। তাদের যোগ্য প্রার্থী কম, তবে আসন চায় বেশি। তাদের যারা শীর্ষ নেতা আছেন তাদের সবাইকে মনোনয়ন দিতে গেলে বিএনপির অনেক যোগ্য পুরানো এমপি-মন্ত্রীকে বঞ্চিত করতে হবে। বিএনপির এ জটিলতার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তারা এবার ২০০৮ সালের চেয়ে বেশি আসন দাবি করছে। তারা বলছে, তারা বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে। জামায়াত এবার ৬২টি আসন চাচ্ছে বিএনপির কাছে। ২০০৮ সালে বিএনপি ৩৩টি আসনে ছাড় দিয়েছিল জামায়াতকে। সেই সাথে আরো ৫টি আসনে জামায়াত বাড়তি প্রার্থী দিয়েছিল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে নির্বাচনে আসার কারণে প্রেক্ষাপট বদলে গেছে। বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিক্রি চলছে তিন দিন যাবত্। আসন নিয়ে দর কষাকষি শুরু করেছে ফ্রন্টের শরিক দলগুলো। বিএনপি ছাড়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট কোন্ প্রতীকে নির্বাচন করবে এখনও চূড়ান্ত হয়নি। বেশিরভাগই ধানের শীষ প্রতীকেই নির্বাচন করতে পারেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্টের সবচেয়ে বড় দল বিএনপির কাছ থেকে প্রাথমিকভাবে ৬০টির মতো আসন দাবি করছে শরিকরা। দর কষাকষির চূড়ান্ত পর্যায়ে ন্যূনতম চাহিদা পূরণ হলে সমঝোতায় আসবে জোটের শরিকরা। এর মধ্যে গণফোরাম প্রাথমিকভাবে ১৫ প্রার্থীর তালিকা তৈরি করেছে। ড. কামাল হোসেন ঘোষণা করেছেন তিনি নির্বাচনে লড়বেন না। ফ্রন্টের অন্যতম শরিক আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি তৈরি করেছে ১২ জনের প্রার্থী তালিকা। আবদুর রব ও তার স্ত্রী তানিয়া রব নির্বাচন করতে বদ্ধপরিকর। মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য ৭, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ ৯ আসনে প্রার্থী তালিকা ঠিক করেছে। জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া থেকেও কয়েকজনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের মধ্যে গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী ঢাকা-৬, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ঢাকা-২ অথবা ঢাকা-৩, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষ্মীপুর-৪, কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী টাঙ্গাইল-৮ ও ৪ (যদিও তিনি নির্বাচন করতে পারবেন কিনা তা নিশ্চিত নয়), নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২ এবং জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সুলতান মোহাম্মদ মনসুর মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। ড. কামাল হোসেন সম্মত হলে ঢাকা-৮ আসন তাকে দেওয়া হবে।

জানা গেছে, ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলের মধ্যে জেএসডি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশনকে। গণফোরাম তাদের দলীয় প্রতীক উদীয়মান সূর্য নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চায়। নিবন্ধন না থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবে নাগরিক ঐক্য।