চালের দাম বাড়লেও কাঁচাবাজারে স্বস্তি

বাজারদর

ইত্তেফাক রিপোর্ট

নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি দিয়ে বছর শুরু হলেও হঠাত্ করে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে চালের। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকার সারাদেশে আমন সংগ্রহ অভিযান শুরু করায় পাইকারি বিক্রেতারা ধান কিনতে শুরু করেছেন। এছাড়া শৈত্যপ্রবাহের কারণে ধান শুকাতে না পারায় হাটে ধানের যোগান কমে গেছে। ফলে দাম বেড়েছে ধানের। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারের উপর।

সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) খুচরা বাজারদরের প্রতিবেদনেও চালের দাম বাড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। সংস্থাটির হিসেবে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে সব ধরনের চালের দামে কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর কাওরানবাজার ও নিউমার্কেটের খুচরা বাজারগুলোতে প্রতি কেজি নাজিরশাইল/মিনিকেট ৫৫ থেকে ৬২ টাকা, পাইজাম/লতা ৪৫ থেকে ৫৪ টাকা ও মোটা চাল ইরি/স্বর্ণা ৩৮ থেকে ৪২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেশি।

তবে চালের দাম বাড়লেও স্বস্তি রয়েছে কাঁচাবাজারে। প্রায় সব ধরনের সবজির দামই নির্বাচনকালীন সময়ের তুলনায় কমেছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজারে প্রতি কেজি ঢেঁড়স, শিম ৩০ থেকে ৪০ টাকা, নতুন আলু ৩০ টাকা, টমেটো ৪০ থেকে ৫০ টাকা, গাজর ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। এছাড়া প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয় ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।

কাওরানবাজারের সবজি বিক্রেতা সালাম বলেন, নির্বাচনের সময় পরিবহন সংকটে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এজন্য দাম কিছুটা বেড়ে যায়। এখন আবার সবজির সরবরাহ বাড়ায় দাম কমেছে। তিনি বলেন, শীত মৌসুমে সবজির ব্যাপক সরবরাহ থাকে। তাই এসময় যৌক্তিক কোনো কারণ ছাড়া সবজির দাম বাড়বে না। এদিকে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম কমেছে ব্রয়লার মুরগি ও ডিমের। কেজিতে ৫ টাকা কমে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১২৫ থেকে ১৩০ টাকায়। এছাড়া ফার্মের ডিম হালিতে ২ টাকা কমে বিক্রি হয়েছে ৩২ থেকে ৩৩ টাকায়।

এছাড়া বাজারে মাছের মধ্যে ৫’শ থেকে ৬’শ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৫’শ থেকে সাড়ে ৫’শ টাকা, রুই ২২০ থেকে ৩৫০ টাকা, কাতল ২৫০ থেকে ৪’শ টাকা, তেলাপিয়া ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, চাষের পাঙ্গাস ১৩০ থেকে ১৭০ টাকা, চাষের কৈ ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা, শিং ৩৫০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়।