চাকরি প্রত্যাশী এনে দেওয়াই চাকরি!

চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক্সিলেন্ট ট্রেড মার্কেটিং লিমিটেড নামে একটি কোম্পানির অফিসে অভিযান চালিয়ে ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সিআইডি বলছে, চাকরি প্রত্যাশীদের ফাঁদে ফেলে অফিসে এনে দেওয়াই প্রতারক চক্রের এক রকম চাকরি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিআইডির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার এনামুল কবির বলেন, চক্রটি চাকরি দেওয়ার কথা বলে তরুণদের ফাঁদে ফেলে। এরপর মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়। চাকরি না দিয়ে এমএলএম পদ্ধতিতে অন্য (ক্লায়েন্ট) চাকরি প্রত্যাশী এনে দিলে টাকা ফেরতের আশ্বাস মেলে। চাকরি প্রার্থী যোগাড় করার বিনিময়ে সামান্য কমিশন পেত ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগী কয়েকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রাজধানীর বারিধারার ভাটারা নতুন বাজার এলাকার প্রাইম অর্কেড বিল্ডিংয়ের পঞ্চম তলা থেকে বৃহস্পতিবার ঐ ১৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছে কোম্পানির প্যাডে ১১৫টি অঙ্গীকারনামা, কোম্পানির নামে পূরণ করা ৪২টি আবেদনপত্র, এগ্রিমেন্ট ফরম ও পূরণকৃত ৩০টি ট্রেডিং কার্ড পাওয়া যায়। গ্রেফতাররা হলেন আশরাফুল ইসলাম, আল আমিন মণ্ডল রতন, উজ্জল হোসেন, শিমুল মোল্লা, জহিরুল ইসলাম ওরফে পাপ্পু মিয়া, আব্দুল মোমিন, শাহীন আলম, নুর আলম সিদ্দিকী, মাজেদুল ইসলাম, ইমরুল হাসান, মনিরুজ্জামান, রিঙ্কু কুমার দাস ও অভিজিত পান্ডে।

এই চক্রের সদস্যরা এমএলএম পদ্ধতির মতোই কাজ করত। সিআইডি কর্মকর্তা বলেন, চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার দায়ে গত অক্টোবরে গাজীপুরে লাইফওয়ে নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ১৭ সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর কয়েকজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে রাজধানীর ভাটারা হতে এই ১৩ প্রতারককে গ্রেফতার করা হলো। তিনি বলেন, প্রতারকচক্রের সদস্যরা বেকার ছেলে-মেয়েদের চাকরি দেওয়ার নাম করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়।

সিআইডির এই কর্মকর্তা আরও বলেন, কারও কাছ থেকে ৩০ হাজার, কারও কাছ থেকে ৪৫ হাজার, কারও কাছ থেকে ৮০ হাজার আবার কারও কাছ থেকে এক লাখ ৪৫ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে চক্রটি। এভাবে ১৩০ জনের কাছে প্রায় ৫০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। এর পেছনে আরও কোন চক্র জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে।